অনেকদিন আগে একটি নাটক দেখেছিলাম। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ডিপার্টমেন্টের দুই মেধাবী মুখকে কেন্দ্র করে রচিত নাটকটিতে নায়ক যথারীতি প্রতিবার প্রথমস্থান অধিকার করে আর নায়িকা প্রানান্তকর চেষ্টা করে প্রথমস্থান অধিকার করবার। কিন্তু প্রতি পরীক্ষা শেষে দেখা যায় ঐ একই চিত্র।
হঠাৎ একবার দৃশ্যপটে পরিবর্তন সূচিত হলো। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল নায়িকা প্রথমস্থান অধিকার করেছে। নায়িকা তো তার নাম প্রথমে দেখেই খুশিতে আটখানা। মহানন্দে যখন তার আত্মহারা হবার উপক্রম তখনই তার মনে প্রশ্ন জাগলো নায়কের অবস্থান কত নম্বরে এটা দেখবার। সে আবার ফিরে এলো রেজাল্ট শিট যেখানে টানানো আছে সেই দেয়ালের কাছে। দুচোখ কচলে ভাল করে দেখার চেষ্টা করলো সে ভুল দেখেছে কিনা এটা দেখবার জন্য। নাহ্, সে ভুল দেখেনি কিন্তু তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর অবস্থান কোথায়? তার নামই যে নেই ঐ তালিকায়! কেন এমন হলো? সে তো ফেল করবার মত ছাত্র নয়। তবে কী সে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি! খোজ নিয়ে জানা গেল সত্যিই তাই; মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে সে ছুটেছে তার গ্রামের বাড়ি। তার কাছে তার মা-ই মুখ্য। এতো গেল এক নাটকের কথা। গত ২ দিন আগে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদ প্রথমবারের মত একসাথে একদিনে ঘোষনা করেছে দেশের সবগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ।কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এই তালিকায় নেই দেশের সর্বোচ্চ গর্বের বিদ্যাপীঠ বুয়েটের নাম। যে বুয়েট প্রতি বছর সবার আগে ভর্তি পরীক্ষা নেবার মাধ্যমে একঝাক মেধাবী তরুনের আজন্ম লালিত স্বপ্নের বীজটিকে বিদ্যাপীঠ নামক ভূমিতে প্রোথিত করে সেই বুয়েট আজ নোংরা রাজনৈতিক হানাহানির শিকার হয়ে তার প্রাত্যাহিক কর্মকান্ডকে ছুটি জানিয়ে অজানা গন্তব্যের পথে পাড়ি জমাচ্ছে। আমরা কোথায় যাচ্ছি? কোথায় এর সমাধান?
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক পর্যায়ের ভর্তি পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ‘ক’ ইউনিট ১২ অক্টোবর, ‘খ’ ইউনিট ১৯ অক্টোবর, ‘গ’ ইউনিট ২৩ নভেম্বর, ‘ঘ’ ইউনিট ৯ নভেম্বর এবং ‘চ’ ইউনিট ১৬ নভেম্বর।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরূপ, বিকেল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ৬ থেকে ৯ অক্টোবর।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ১০ নভেম্বর।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ১১ থেকে ১৮ নভেম্বর।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ১৩ থেকে ২১ অক্টোবর।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: ১৮ থেকে ২২ নভেম্বর।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৪ নভেম্বর।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ১০ থেকে ১২ অক্টোবর।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ৭ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: ২৮ ডিসেম্বর।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৩০ নভেম্বর।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বর।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১ ডিসেম্বর।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল: ২০ ও ২১ নভেম্বর।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১০ নভেম্বর।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯ নভেম্বর।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ৯ নভেম্বর।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়: ২৯ নভেম্বর।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ২৬ থেকে ২৯ নভেম্বর।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: ১৫ ও ১৬ নভেম্বর।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৬ ও ১৭ নভেম্বর।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৩ নভেম্বর।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২১ ডিসেম্বর।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর: ৭ ও ৮ নভেম্বর।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস: ৫ অক্টোবর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ: ২৩ ও ৩০ নভেম্বর।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৬ নভেম্বর।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: ৯ ও ১০ নভেম্বর।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও ঘোষিত হয়নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুরূপ, বিকেল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়: ৬ থেকে ৯ অক্টোবর।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ১০ নভেম্বর।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়: ১১ থেকে ১৮ নভেম্বর।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: ১৩ থেকে ২১ অক্টোবর।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়: ১৮ থেকে ২২ নভেম্বর।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৪ নভেম্বর।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়: ১০ থেকে ১২ অক্টোবর।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: ৭ ডিসেম্বর।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়: ২৮ ডিসেম্বর।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ৩০ নভেম্বর।
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৭ থেকে ২০ ডিসেম্বর।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১ ডিসেম্বর।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, টাঙ্গাইল: ২০ ও ২১ নভেম্বর।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১০ নভেম্বর।
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৯ নভেম্বর।
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ৯ নভেম্বর।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়: ২৯ নভেম্বর।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়: ২৬ থেকে ২৯ নভেম্বর।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়: ১৫ ও ১৬ নভেম্বর।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৪ ও ১৫ ডিসেম্বর।
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ১৬ ও ১৭ নভেম্বর।
সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: ২৩ নভেম্বর।
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়: ২১ ডিসেম্বর।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর: ৭ ও ৮ নভেম্বর।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস: ৫ অক্টোবর।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ: ২৩ ও ৩০ নভেম্বর।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৬ নভেম্বর।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: ৯ ও ১০ নভেম্বর।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট): ভর্তি পরীক্ষার তারিখ এখনও ঘোষিত হয়নি।
শিক্ষকেরা নাকি জাতির পিতা! আজ বাংলাদেশের এতগুলি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষিত হলো অথচ বুয়েটের ব্যাপারে এই শিক্ষক সমাজ একেবারে নিশ্চুপ!যেন কিছুই ঘটেনি!যখন দেখি কিছু কিছু মহল অনেক তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে প্রচারার্থে মানববন্ধন কিংবা তথাকথিত অনশন করছেন তখন মনে প্রশ্ন জাগে বুয়েটের মত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের এই দুর্দিন কী এদের চোখে পড়ে না? দূরে বসে কিছুই করতে পারিনা কেবলই মন থেকে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে আর বলতে ইচ্ছে করে-“ওরা বুঝেনা!ওদের জ্ঞান দাও প্রভূ! একতাবদ্ধ হবার শক্তি যে কত তা বোঝার শক্তি ওদের দাও!!

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন