শাওয়ালের বাঁকা চাঁদের বাহনে ঈদ আসছে আবার। প্রাণে প্রাণে বইয়ে দেবে অসীম আনন্দের ধারা। তবে কিছু মানুষের
জীবনে তা কোনো ছাপ ফেলবে না। এ দিনটিও তাদের কাছে অন্য একটি দিনের মতো, জীবন টেনে নেয়া দায়পূর্ণ কতোগুলো মুহূর্ত ছাড়া কিছু নয়।
ঈদকে সামনে রেখে উত্তাল আনন্দের আলোকিত এ নগরের পথে পথে দেখা মেলে তাদের।
কারো বাবা-মা থেকেও নেই। আবার কেউ কেউ জানেই না কে তাদের বাবা-মা। ঠিকানা নেই, পথই ওদের ঠিকানা। দিনভর পথে পথে ঘুরে বেড়ায়, রাতেও পথেই ঘুমায়। পথে এটা-ওটা কুড়িয়েই জীবন চলে ওদের। ওরা পথশিশু। কেউ কেউ ‘টোকাই’ বলে ডাকে। ওদের ঈদ নেই। নেই ঈদের নতুন জামা-কাপড়, নেই কোনো আনন্দ। অন্যান্য দিনও যেমন ঈদের দিনও তেমনই ওদের কাছে। কোনো পার্থক্য নেই, নেই কোনো বাড়তি আয়োজন। রাজধানীর প্রায় সব পথশিশুরই একই ভাগ্য। এদেরই কয়েকজনের সাথে কথা হয় রাজধানীর জিপিও এলাকায়।
গোলাপ শাহ (৭), আল আমিন (৮), জমির (১০), সুমন (৯) ও রাসেল (১২)। এদের মধ্যে শুধু গোলাপ শাহ তার ঠিকানা জানে। বাড়ি ময়মনসিংহ। সেখানে মা আছেন। বাকিদের কোনো ঠিকানা নেই। নেই বাবা-মায়ের পরিচয়। আল আমিন জানায়, বাবা-মা কে তা জানা নেই তার। পথেই বড় হয়েছে। কবে কোত্থেকে পথে এসেছে তা-ও মনে নেই। মনে নেই জমিরেরও। সুমন, রাসেল কেউই জানে না তাদের বাবা-মা কে। পথে যাকে পায় তাকেই ওরা আপন করে নেয়। একত্রে থাকে, ঘুমায়। সুযোগ পেলে ‘পাঁচগুটি’ খেলে। দিনভর কাগজ কুড়ায়। তা বিক্রি করে যা পায় সবাই ভাগ করে খায়। আবার কখনো কখনো আশপাশের দোকান থেকে কিছু খাবার দেয়। ও খেয়েই দিন কেটে যায়। ওরা জানে না ঈদ কী। ঈদে নতুন জামা পরবে কি না জানতে চাইলে গোলাপ শাহ বলে ‘আমগো ঈদ নেই। নতুন জামা দিবো কে?’ আল আমিন বলে, গত বছর একজনে একটি জামা দিয়েছিল। এবার কেউ দেয়নি। রাসেল বলে, ‘নতুন জামা দিয়ে কী অইবো। রাস্তায় ঘুম গেলে কি জামা নতুন থাকে।’ ওরা জানায়, কবে কে কোত্থেকে এখানে এসেছে বলতে পারবে না। এখন সবাই একত্রে থাকে। রাতে ফুটপাথে বা রোড ডিভাইডারের ওপর ঘুমায়। কখনো কখনো তা-ও ঘুমাতে পারে না। পুলিশ বা দারোয়ানরা ঝামেলা করে। ঘুম থেকে তুলে দেয়। বৃষ্টি হলে কোথাও গুটিশুটি হয়ে সবাই একত্রে বসে থাকে। ওদের কষ্ট আরো এক শিশু ওদের সাথে ছিল। কয়েকদিন আগে থেকে সে নিখোঁজ। এ জন্য ওদের মন ভীষণ খারাপ।
পল্টন মোড়ের এক পথশিশু রুবেল জানায়, ওরা লেখাপড়া করে না। পড়ালেখা কী তাই জানে না কেউ। নেশা করার কথা স্বীকার করল ওরা। বলল ‘ডাণ্ডি খাই’। ডাণ্ডি কী জানতে চাইলে বলল ‘জুতার গাম’। ওগুলো পলিথিনের মধ্যে নিয়ে তাতে মুখ ঢুকিয়ে শ্বাস টেনে নেশা করে ওরা। সুমন বলল, কখন কিভাবে নেশা ধরেছে তা মনে নেই। তবে এখন নেশা না করলে ঘুমাতে পারে না। নেশা করে ঘুমালে মশায় কামড়ায়। গতকাল দেখা যায় পুলিশ এবং র্যাবের গাড়ির পাশে বসেই ওরা নেশা করছে। রুবেল বলে, নেশা করি বলে অনেকে মারে। খারাপ বলে। পল্টন মোড়েও দেখা মেলে বেশ কয়েকজন পথশিশুর। ঈদ কবে তাই জানে না তারা। ওরা বলল ঈদে বাড়তি কোনো আনন্দ নেই। ঈদের দিনেও ওদের পথে কাগজ কুড়াতে হবে। তা না হলে খাবার জুটবে না। এখানে যেসব পথশিশু রয়েছে তাদেরও কোনো ঠিকানা নেই। নেই বাবা-মায়ের পরিচয়। ভুট্টো নামের এক শিশু জানায়, ওর বয়স হবে ছয়-সাত বছর। কিভাবে এখানে এসেছে সে জানে না। তবে এখন এখানেই তার ঠিকানা। ঈদের দিন নতুন জামা পরতে ইচ্ছে হয় কি না জানতে চাইলে সে বলে, ‘কে দিবো’।
গোলাপ শাহ (৭), আল আমিন (৮), জমির (১০), সুমন (৯) ও রাসেল (১২)। এদের মধ্যে শুধু গোলাপ শাহ তার ঠিকানা জানে। বাড়ি ময়মনসিংহ। সেখানে মা আছেন। বাকিদের কোনো ঠিকানা নেই। নেই বাবা-মায়ের পরিচয়। আল আমিন জানায়, বাবা-মা কে তা জানা নেই তার। পথেই বড় হয়েছে। কবে কোত্থেকে পথে এসেছে তা-ও মনে নেই। মনে নেই জমিরেরও। সুমন, রাসেল কেউই জানে না তাদের বাবা-মা কে। পথে যাকে পায় তাকেই ওরা আপন করে নেয়। একত্রে থাকে, ঘুমায়। সুযোগ পেলে ‘পাঁচগুটি’ খেলে। দিনভর কাগজ কুড়ায়। তা বিক্রি করে যা পায় সবাই ভাগ করে খায়। আবার কখনো কখনো আশপাশের দোকান থেকে কিছু খাবার দেয়। ও খেয়েই দিন কেটে যায়। ওরা জানে না ঈদ কী। ঈদে নতুন জামা পরবে কি না জানতে চাইলে গোলাপ শাহ বলে ‘আমগো ঈদ নেই। নতুন জামা দিবো কে?’ আল আমিন বলে, গত বছর একজনে একটি জামা দিয়েছিল। এবার কেউ দেয়নি। রাসেল বলে, ‘নতুন জামা দিয়ে কী অইবো। রাস্তায় ঘুম গেলে কি জামা নতুন থাকে।’ ওরা জানায়, কবে কে কোত্থেকে এখানে এসেছে বলতে পারবে না। এখন সবাই একত্রে থাকে। রাতে ফুটপাথে বা রোড ডিভাইডারের ওপর ঘুমায়। কখনো কখনো তা-ও ঘুমাতে পারে না। পুলিশ বা দারোয়ানরা ঝামেলা করে। ঘুম থেকে তুলে দেয়। বৃষ্টি হলে কোথাও গুটিশুটি হয়ে সবাই একত্রে বসে থাকে। ওদের কষ্ট আরো এক শিশু ওদের সাথে ছিল। কয়েকদিন আগে থেকে সে নিখোঁজ। এ জন্য ওদের মন ভীষণ খারাপ।
পল্টন মোড়ের এক পথশিশু রুবেল জানায়, ওরা লেখাপড়া করে না। পড়ালেখা কী তাই জানে না কেউ। নেশা করার কথা স্বীকার করল ওরা। বলল ‘ডাণ্ডি খাই’। ডাণ্ডি কী জানতে চাইলে বলল ‘জুতার গাম’। ওগুলো পলিথিনের মধ্যে নিয়ে তাতে মুখ ঢুকিয়ে শ্বাস টেনে নেশা করে ওরা। সুমন বলল, কখন কিভাবে নেশা ধরেছে তা মনে নেই। তবে এখন নেশা না করলে ঘুমাতে পারে না। নেশা করে ঘুমালে মশায় কামড়ায়। গতকাল দেখা যায় পুলিশ এবং র্যাবের গাড়ির পাশে বসেই ওরা নেশা করছে। রুবেল বলে, নেশা করি বলে অনেকে মারে। খারাপ বলে। পল্টন মোড়েও দেখা মেলে বেশ কয়েকজন পথশিশুর। ঈদ কবে তাই জানে না তারা। ওরা বলল ঈদে বাড়তি কোনো আনন্দ নেই। ঈদের দিনেও ওদের পথে কাগজ কুড়াতে হবে। তা না হলে খাবার জুটবে না। এখানে যেসব পথশিশু রয়েছে তাদেরও কোনো ঠিকানা নেই। নেই বাবা-মায়ের পরিচয়। ভুট্টো নামের এক শিশু জানায়, ওর বয়স হবে ছয়-সাত বছর। কিভাবে এখানে এসেছে সে জানে না। তবে এখন এখানেই তার ঠিকানা। ঈদের দিন নতুন জামা পরতে ইচ্ছে হয় কি না জানতে চাইলে সে বলে, ‘কে দিবো’।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন