কলকাতা প্রতিনিধি
Desnews:
কলকাতা, ১১ আগস্ট: সম্ভবত ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বাংলা প্রিন্ট মিডিয়ায় বিবর্তনের বছর হতে চলেছে ২০১৩। একবার শ্বাস নিয়ে, এক নাগারেও এই মহা-বির্বতনের খবর বলা সম্ভব নয়, কারো পক্ষেই। অর্থাৎ আসন্ন পত্রিকাগুলোর কলেবর বৃদ্ধির মতোই বড় আসন্ন পত্রিকার লিস্ট!
তিন কোটির উপরে পাঠক সংখ্যার প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ বাংলা ভাষায় দৈনিক পত্রিকা আনতে যাচ্ছে। খুব শিগগির এর প্রকাশনা না হলেও আগামী বছর যেকোনো সময় পাঠকদের হাতে পৌঁছাবে নতুন দৈনিকটি। বাংলা ভাষার সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা করার লক্ষ্য নিয়েই টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ এই যুদ্ধে নামছে।
সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ এসব স্বীকার না করলেও কলকাতার মিডিয়া হাউজগুলোতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে হাজার কোটি রুপি বাজেট নিয়ে নামছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপের বাংলা দৈনিকটি। । ন্যূনতম মূল্যে বেশি পৃষ্ঠা এবং ভিন্নস্বাদের ম্যাগাজিন এবং স্লাপ্লিম্যান্ট দিয়ে পাঠক ধরাই তাদের লক্ষ্য। যেটি তারা ইংরেজি দৈনিকটিতে করছে।
কলকাতার তিনটি বড় পত্রিকা থেকে শীর্ষ সাংবাদিকদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা দিয়ে, নিয়োগ করে, তাদের অভিজ্ঞতা এবং মেধাকে প্রচার সংখ্যা বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে চাইছে টাইমস অফ ইন্ডিয়া গ্রুপ । এখনও পর্যন্ত যা খবর ততে পত্রিকাটির সম্পাদক হচ্ছেন টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রেসিডেন্সিয়াল এডিটর সুমিত সেন নিজেই। শুধু তাই নয়, এই মূহুর্তে বিভিন্ন হাউস থেকে যাওয়া সাংবাদিকদেরও তিনি নিজে পরীক্ষা নিয়ে নিয়োগ করছেন।
খবর আরো আছে! আনন্দবাজার পত্রিকা গোষ্ঠী অচিরেই আনছে মিড ডে দৈনিক। দুপুরের পর পাঠকরা পাবেন দিনের খবর।
কলকাতায় এ ধরণের দৈনিক পত্রিকাগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সংবাদ প্রতিদিন গ্রুপের ’বিকেলের প্রতিদিন’। এবং আজকাল গোষ্ঠীর ’সান্ধ্য আজকাল’।
এছাড়াও গত এক বছরে কলকাতার বাজারে এসেছে নতুন অরো কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা। এরমধ্যে অবশ্যই রোজভ্যালি গোষ্ঠীর ‘খবর ৩৬৫ দিন’ পত্রিকাটি ঈর্ষণীয়ভাবে তাদের প্রচার সংখ্যা বাড়িয়েই চলেছে। দুশো দিন বয়সের পত্রিকাটির প্রচার সংখ্যা প্রায় দেড় লাখ। ২৪ পৃষ্ঠার সঙ্গে সেনসেশনাল সিনে-ট্যাবলয়েড ’বিবি’ দিয়ে দাম মাত্র ২ টাকা। বাজারে অন্য দৈনিক পত্রিকাগুলোর ন্যূনতম দাম সাড়ে তিন টাকা। সেখানে পৃষ্ঠার সংখ্যাও কম। পাঠকরা দুই টাকায় পত্রিকা কিনতে পারছেন। তাই রাস্তা-ঘাটে হাতে হাতে এখন ‘খবর ৩৬৫’ দেখা যাচ্ছে।
এছাড়া এ বছর দৈনিক ‘স্বভূমি’ পত্রিকাটিও এসেছে অনাড়ম্বরভাবে। প্রচার ধরতে পারেনি নতুন এই দৈনিকটি। সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক পত্রিকা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘কলম’ পত্রিকাটি। পত্রিকার সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান পত্রিকাটি সরদা গ্রুপের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এখন অবশ্য সম্পাদক নন তিনি।
এক সপ্তাহ ধরে বাজারে এসেছে আরো একটি নতুন দৈনিক ’আবার যুগান্তর’। নতুন আরো দুই থেকে পাঁচটি দৈনিক পত্রিকা আসতে পারে বাজারে।
বন্ধ হয়ে যাওয়া ’খবরের কাগজ’ নামের একটি আলোচিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ১৫ আগস্ট থেকে আবার যাত্রা শুরু করছে। পত্রিকাটির অতিথি সম্পাদক জনপ্রিয় অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী এবং সম্পাদক কুণাল ঘোষ।
তবে এতোসব পত্রিকার মধ্যেও নিশ্চিতভাবে টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র বাংলা দৈনিকটিকেই এই মূহুর্তে বাজার চলতি প্রভাবশালী প্রায় সবগুলো দৈনিক পত্রিকাউ ‘বড় হুমকি’র চোখে দেখছে। বিশেষ করে আনন্দবাজার এবং বর্তমান পত্রিকার বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিক টাইমসের বাংলা দৈনিকে যুক্ত হওয়ার পরই কলকাতার মিডিয়া হাউস গুলোতে এক ধরণের টাইমস অফ ইন্ডিয়া আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, প্রচার সংখ্যায় দ্বিতীয় ’বর্তমান’ পত্রিকা থেকেই বেশি সাংবাদিক ও কর্মী গিয়েছেন টাইমসের নতুন বাংলা দৈনিকে। এছাড়ও কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল থেকেও নতুন দৈনিকটিতে যোগ দিয়েছেন শীর্ষ কয়েকজন সাংবাদিক। আনন্দবাজার পত্রিকার যে কয়েকজন সাংবাদিক নতুন ওই দৈনিকে গিয়েছেন, সেখানে অবশ্য বর্তমান থেকে ওই পর্যায়ের সাংবাদিক নিয়ে শূন্যপদ পূরণ করার চেষ্টা করছে এবিপি গোষ্ঠী।
ঐতিহ্যে, নামে ও প্রচারে শীর্ষে থাকা আনন্দবাজার পত্রিকায় এই মূহুর্তে কর্মী সংকট না হলেও আগামীতে টাইমস অফ ইন্ডিয়া’র বাংলা পত্রিকাটি তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে, এমন আশঙ্কায় এবিপি’ও বিভিন্নভাবে এই ঝড় মোকাবেলার কৌশল খুঁজছে।
মিডিয়া বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সার্কুলেশন ধরে রাখতে এবিপি আনন্দবাজারের মধ্য সংস্করণ ’মিড ডে ডেইলি’ করার পরিকল্পনা করছে। তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলেও এখনো নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলেই সূত্রগুলো জানিয়েছে।
দুটি বড় হাউসের যুদ্ধে অবশ্য তৃতীয়স্থান ধরে রাখা ’সংবাদ প্রতিদিন’ নিজেদের সার্কুলেশন অক্ষুন্ন রাখতে মরিয়া। এমনিতেই পত্রিকাটির বিশেষ একটি রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকায়, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কর্মী কিংবা সমর্থকরা নিয়মিত পত্রিকাটি পড়েন, কেনেন, সংরক্ষণ করেন। তবুও এটাও স্বীকার করতে হবে, সকালে প্রকাশিত কলকাতার অন্য যেকোনো দৈনিক পত্রিকার চেয়েও সংবাদ প্রতিদিনের দুপুরে প্রকাশিত মিড ডে ডেইলি ’বিকেলের প্রতিদিন’ এর সার্কুলেশন অনেক বেশি। ফলে ওই পত্রিকাটি আসন্ন আনন্দবাজারের মিড ডে ডেইলিকেই তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছে। তাই প্রতিদিন কর্তৃপক্ষ নিজেদের পত্রিকার অবস্থান ধরে রাখতে গুটি সাজাচ্ছন শক্তপোক্তভাবেই।
তবে শেষ কথা বলতে গিয়ে অবশ্যই বলতে হবে, পশ্চিমবঙ্গের পাঠকদের মধ্যে এখন নতুন পত্রিকা পড়ার ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। গত দুই দশক ধরে আনন্দবাজার, বর্তমান, প্রতিদিন এবং আজকাল এই চারটি দৈনিক বাড়ির পড়ার টেবিল থেকে পাড়ার চায়ের দোকানে দেখা গিয়েছে। তবে বছর চারের আগে দৈনিক হিসাবে প্রকাশিত ’একদিন’ এবং বিধানসভা নির্বাচনের এক বছর আগে দৈনিক ’সকালবেলা’ এই পত্রিকা দুটি পাঠকদের সামনে প্রত্যাশা নিয়ে হাজির হয়। এরই মধ্যে বাজারে আসে ভোরের বার্তা, প্রত্যাহিক খবর এবং এরও আগে আসে দৈনিক প্রয়াগ নামের আরো দুই-তিনটি দৈনিক পত্রিকা। এগুলো একদম সার্কুলেশন পায়নি এই কথা বলা না গেলেও মানুষের হাতে হাতে খুব একটা দেখাও যায় না। তবে যেকোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলের পত্রিকার স্টলগুলো থেকে এসব দৈনিক পত্রিকা পাঠকরা চাইলেই কিনতে পারছেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন