চলতি বছরের এপ্রিলে অনুমোদন পাওয়া ৯টি ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর সময় প্রায় ৫ মাস পার হয়ে গেছে। তবে সাদা টাকায় পরিশোধিত মূলধন সংগ্রহের শর্তে থমকে গেছে নতুন ব্যাংক পরিচালনায় আগ্রহপত্র (লেটার অব ইনটেন্ট) নেওয়া বেসরকারি খাতের ছয় ব্যাংকের কার্যক্রম শুরুর তৎপরতা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ১৭ এপ্রিল আগ্রহপত্র পাওয়ার পরে পরিশোধিত মূলধন ৪০০ কোটি টাকা পূরণ করতে ব্যাংকগুলো হিমশিম খাচ্ছে। একই অবস্থায় আগ্রহ পত্রপাওয়া ৩টি এনআরবি (নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশি) ব্যাংকের। ছয় মাসের মধ্যে শর্ত পূরণের অঙ্গীকারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আগ্রহপত্র নেওয়ার পাঁচ মাস গড়িয়ে গেলেও কোনোটিরই সাড়া মেলেনি। আর নতুন বাজেটে অবাধে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ায় কালো টাকা সাদা হয়ে ব্যাংকে ঢুকে পড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।
জানা গেছে, প্রবাসীদের কাছ থেকে তিন ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আর দেশের ভেতরেও নতুন ৬ ব্যাংকে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার মতো সাদা টাকা অর্থায়নে যোগ্য বিনিয়োগকারী পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এখন পর্যন্ত প্রধান নির্বাহী নির্বাচন আর একটি অফিস রুম ভাড়া নেওয়া ছাড়া আর বেশি দূর অগ্রসর হতে পারেনি এ ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম।
সর্বশেষ তথ্যমতে নতুন কয়েকটি ব্যাংক সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছে বলে সূত্র জানায়। তবে সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, শর্ত পূরণের জন্য প্রায় ২ থেকে ৩ মাস সময় বর্ধিত করা হতে পারে। এরপরেও যদি কোনো ব্যাংক সব শর্ত পূরণ করতে না পারে তবে তাদের ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ব্যাংক চালানোর অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। তাদের আর লাইসেন্স প্রদান করা হবে না। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক চায় না দেশের অর্থনীতিতে কোনো দুর্বল ব্যাংকের জন্ম হোক। আমরা নতুন আসা ব্যাংকগুলোকে কতগুলো শর্ত এবং আগ্রহপত্র দিয়েছি। এই শর্তগুলো পূরণ করেই তাদের আসতে হবে। যাতে করে শক্তিশালী ব্যাংকের অভ্যুদয় ঘটে। এটি নিশ্চিত করার পরেই আমরা লাইসেন্স দেব।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলেন, নতুন ব্যাংকগুলোকে লাইসেন্স নেওয়ার জন্য বোর্ডে এসে তাদের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা বা কিভাবে তারা ব্যাংকিং ব্যবসা করবে সে সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে হবে। তারা কি ধরনের লোকবল নিয়োগ দেবে এবং এই জনবলের যোগ্যতা মানসম্মত কি না তা কেন্দ্রীয় ব্যাংক লাইসেন্স দেওয়ার আগে পরীক্ষা করবে এবং তারপর লাইসেন্স দেবে। তারা আরো বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূলধন জমা দেওয়াসহ অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে না পারলে ব্যাংকগুলোর ভবিষ্যত কি হবে সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।
এদিকে, গত এপ্রিলের শুরুর দিকে নির্ধারিত সময়সীমা ও কয়েকটি শর্ত নিয়ে দেশের অর্থনীতিতে এই ৯ ব্যাংকের আর্বিভাব ঘটে। নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য শর্তগুলো হল_ ৪০০ কোটি টাকা মূলধন নিয়ে নতুন ব্যাংকের যাত্রা শুরু করতে হবে, কোনো ঋণ বা কর-খেলাপি ব্যক্তি নতুন ব্যাংকের পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডার হতে পারবেন না, এমনকি গত ৫ বছরেও কেউ খেলাপি বা এ বিষয়ক কোনো মামলা অনিষ্পত্তি থাকলে তার আবেদন বিবেচনায় নেওয়া হবে না। এসব ব্যাংকের শাখা ১:১ অনুপাতে হবে। নতুন ব্যাংকের মোট বিতরণ করা ঋণের কমপক্ষে ৫ শতাংশ কৃষি খাতে, আগের বছরের নিট আয়ের ১০ শতাংশ সিএসআর খাতে ব্যয় করতে হবে। অথবা এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক সময় সময় যে নির্দেশনা দেবে সে মোতাবেক চলতে হবে।
দেশের ভেতরে ৬টি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য অনুমোদন পাওয়া তিনটি ব্যাংক হচ্ছে ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড, মধুমতি ব্যাংক লিমিটেড, দি ফারমারস ব্যাংক লিমিটেড, মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড, মিডল্যান্ড ব্যাংক লিমিটেড ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেড এবং এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড, যুক্তরাজ্য কর্মাশিয়াল এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড, যুক্তরাষ্ট্র এনআরবি ব্যাংক লিমিটেড।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন