নিহত ছাত্রদের বাবা-মায়ের পক্ষে করা একটি সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও আবদুর রবের বেঞ্চ মঙ্গলবার এই আদেশ দেয়।
এ মামলা তদন্তের দায়িত্ব আগামী সাত দিনের মধ্যে সিআইডি থেকে র্যাবের কাছে হস্তান্তরের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং ঢাকা মহানগর (ডিমপি) কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এছাড়া ৪ মাসের মধ্যে এ মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য র্যাবের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ১৭ জুলাই শবে বরাতের রাতে আমিন বাজারের বড়দেশী গ্রামসংলগ্ন কেবলার চরে ঢাকার ছয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে আলোচিত ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তে বেরিয়ে আসে, নিহত ছাত্ররা ডাকাত ছিল না এবং হত্যা এড়াতে পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি।
নিহত ছাত্রদের ডাকাত সন্দেহে হত্যা করায় সাভার থানা পুলিশও একটি মামলা করে, যাতে অজ্ঞাতপরিচয় গ্রামবাসীদের আসামি করেন ওই থানার উপ-পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।
ন্যাশনাল প্রোটেকশন অব হিউম্যান রাইটসের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম ওই ঘটনা নিয়ে হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন করলে আদালত গত বছর জুলাইয়ে একটি রুল জারি করে। ছয় নিরীহ ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতা কেন সংবিধান পরিপন্থী ও বেআইনী ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় ওই রুলে।
তাজুল ইসলাম নিহত ছাত্রদের বাবা-মায়ের পক্ষে মামলাটির তদন্তভার র্যাবে স্থানান্তরের জন্য এই সম্পূরক আবেদন করেন। এ বিষয়ে তিনি নিজেই শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইকরামুল হক টুটুল।
আদেশের পর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত এসপি সিরাজুল হক সর্বমোট চারবার সময় নেন। সর্বশেষ গত ১৬ জুন হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ তাকে ৩০ দিন সময় দেয়। এরপরও তদন্তের অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।
“নিহতদের পরিবারের কাছে মনে হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা দায়সারাভাবে তদন্ত করছেন। এ কারণে সর্বশেষ ভরসাস্থল হিসাবে এর তদন্তকাজ র্যাবে হস্তান্তরের আবেদন করেছি। আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।”
তাজুল ইসলাম আবেদন উপস্থাপন করলে জবাবে ডেপুর্টি অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল হক হক টুটুল বলেন, এটি একটি স্পর্শকাতর মামলা। এই মামলার তদন্তে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। তবে এরপরও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আদালত যদি মামলাটি র্যাবে পাঠাতে চায় আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন