চুয়াডাঙ্গা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আওতাধীন নয়টি আদালতের মধ্যে সাতটি আদালতে বিচারক নেই। এতে বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় চরম জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এসব আদালতে বিচারাধীন প্রায় ১০ হাজার মামলা দেখভাল করতে হচ্ছে বাকি দুটি আদালতকে। ফলে জেলা ও দায়রা জজ-১ এবং দায়রা জজ-২ এ দুটি আদালতের বিচারক, বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালত, যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালত, যুগ্ম জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত, চুয়াডাঙ্গা সদর সহকারী জজ আদালত, আলমডাঙ্গা সহকারী জজ আদালত, দামুড়হুদা সহকারী জজ আদালত ও জীবননগর সহকারী জজ আদালাতে বিচারক না থাকায় বিচার প্রার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ এই সাতটি আদালতের বিচারক শূন্য থাকায় অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমান সরদারকে নিজ আদালতসহ একাই আটটি আদালতের বিচার পরিচালনা করতে হচ্ছে। পাশাপাশি রেকড রুম, নজিরখানা ও নকলখানার কার্যক্রম দেখতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০০০ সালের ১১ সেপ্টম্বর থেকে দামুড়হুদার সহকারী জজ আদালতের বিচারক সন্তোষ কুমার সাহাকে বিভিন্ন অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়। বিষয়টি দীর্ঘ এক যুগেও নিষ্পতি না হওয়ায় ওই পদে নতুন করে বিচারক নিয়োগ দেয়া হয়নি। এছাড়া বদলির কারণে বাকি ছয়টি আদালত বিচারক শূন্য হয়ে পড়েছে।
অপরদিকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জামান গত ৭ মে ঢাকা থেকে ছাড়পত্র নিলেও তিনি চুয়াডাঙ্গা যুগ্ম জেলা জজ-১ আদালতের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারক হিসেবে এ পর্যন্ত যোগদান করেননি। এছাড়া যুগ্ম জেলা জজ-২ হিসেবে গত ৯ মে যোগদানকারী বিচারক ইয়ারব হোসেন চার মাসের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে ২০ মে চুয়াডাঙ্গা ত্যাগ করেছেন।
চুয়াডাঙ্গার রবিউল ইসলাম, দামুড়হুদার দুলাল নবী, আলমডাঙ্গার খায়রুল ইসলাম ও জীবননগরের আপেল মাহমুদসহ বিচারপ্রাথীরা জানান, সহকারী ও যুগ্ম জজ আদালতে বিচারক না থাকায় তারা পাঁচ থেকে ১০ বছর ধরে আদালত বারান্দায় ঘুরছেন। দিনের পর দিন আদালতে আসা-যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে হচ্ছে। মামলা নিস্পত্তি না হওয়ায় পারিবারিকও মর্যাদা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট তসিরুল আলম মালিক ডিউক জানান, বিচারক না থাকায় মামলা পরিচালনায় মক্কেলদের পাশাপাশি আইনজীবীরাও বিড়ম্বনায় পড়ছেন।
এছাড়া দেওয়ানি মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম জানান, ২০০০ সাল থেকে দামুড়হুদার সহকারী জজ আদালতের বিচারক সন্তোষ কুমার সাহা সাময়িকভাবে বরখাস্ত হয়ে আছেন। তিনি বছরের পর বছর ধরে তার পদের বিপরীতে বেতন-ভাতা তুললেও পদশূন্য না হওয়ায় নতুন কোনো বিচারক আসতে পারছেন না। ফলে সিভিল মামলা গুলো বেকায়দায় রয়েছে।
এপিপি অ্যাডভোকেট তালিম হোসেন জানান, এ ধরনের বিচারক সংকট আগে চুয়াডাঙ্গায় কখনো হয়নি। এতে রাষ্ট্রপক্ষের মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে অসুবিধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল বাশার জানান, বিচারক সংকটের বিষয়টি নিয়ে ইতিপূর্বে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনমন্ত্রীর কাছে লিখিত ও সরাসরি দেখা করে বিচারক চাওয়া হলেও তার কোনো সুরাহ হয়নি।
এছাড়া হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড মনিটরিং সেলের সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম খোকন জানান, দুজন সিনিয়র বিচারক না থাকায় প্রায় সকল মামলার বিচারপ্রার্থীরা একই সময়ে মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের ভিড় করায় চলাচলে যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি আইনজীবীদের বসার জন্য আসন সংকট দেখা দিচ্ছে।
এদিকে জেলা জজকোর্টের পাশেই অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের কার্যক্রম ২০০৭ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পৌর এলাকার ভিমরুল্লায় নবনির্মিত কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পুরাতন কারাগারের জমির ওপর মূখ্য বিচারিক হাকিম ও বিচারিক হাকিমের আদালত স্থাপনের জন্য প্রস্তাব আকারে কয়েক দফা উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হলেও সে বিষয়েও কোনো সুখবর নেই।
এ ব্যাপারে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহুরুল হায়দার জানান, এজলাস সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। লিখিত ওই পত্রে পুরাতন কারাগারের স্থানে মূখ্য বিচারিক হাকিমের স্থায়ী আদালত স্থাপনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত ও বিচারক না থাকায় বিদ্যমান সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান, পুরাতন কারাগারের কার্যক্রম স্থানান্তরের পর ওই স্থানে মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের দুজন বিচারক আশা করছি শিগগিরই পাবো।
চুয়াডাঙ্গা গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, মূখ্য বিচারিক হাকিমের আদালত ভবন নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ খুবই আন্তরিক। পুরাতন জেলখানার এক দশমিক ২০ একর জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র শিগ্রিরই ঢাকায় প্রকল্প পরিচালক বরাবর পাঠানো

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন