পাঁচ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, তার এই সফর বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। “জোট নয়, একক নির্বাচনের পক্ষেই ভারতের সমর্থন পাওয়া গেছে” বলে দাবি করেছেন এরশাদ।
শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান। পাঁচ দিনের সফর শেষে বেলা পৌনে তিনটায় তিনি ঢাকায় পৌঁছেন। এসময় সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি বিমানবন্দর সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ। পরে তিনি ভিআইপ লাউঞ্জ থেকে পায়ে হেঁটে বাইরে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
ভারত আপনাকে মহাজোটের থাকার ব্যাপারে কী বলেছে? এমন প্রশ্নে এরশাদ বলেন, “ভারত বললেই মহাজোটে থাকতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। এটি আমার দলীয় বিষয়। আমি তাদের বলেছি, একক নির্বাচন করবো এবং সেই সিদ্ধান্তেই অনড় এখনো।”
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এই সফরের বড় অর্জন হচ্ছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এককভাবে নির্বাচনের সমর্থন পাওয়া। এছাড়া তিস্তা ও টিপাইমুখসহ অন্যান্য নদীগুলোর অমিমাংসিত সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ সমীক্ষা চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন তারা।”
বিএনপি নির্বাচনে যাবে না- এটি আপনি ভারত সরকারকে বলেছেন? – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে মহাজোটের এই শরিকনেতা বলেন, “এটি আমাদের নিজস্ব বিষয়। তাদের এসব বলা অথবা তাদের থেকে কোনো সাজেশান নিতে যাব কেন। তারা সব জানে। সবার অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র অব্যাহত থাকুক- এটি তারা চান।”
“এই সফর থেকে বলা যায়, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- আমরা বড় শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছি এবং এখন ভারতও আমাদের মূল্যায়ন করতে শুরু করেছে।” বলেন এরশাদ।
ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো বলেছে- প্রধানমন্ত্রীর দূত হিসেবে আপনার এই সফর- এমন প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, “ডাহা মিথ্যা কথা। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রমজানে সফরে যেতে আমার সমস্যা হবে কি না সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। আমি বলেছি, কোনো সমস্যা নেই। আসতে পারবো। এ প্রেক্ষিতেই সফরে গেছি। তারা আমার সফরকে খুব গুরুত্ব দিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ, রাষ্ট্রপতি প্রনব মুখার্জি, কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উপদেষ্টা শিব শঙ্কর মেনন ও পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাইয়ের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক হয়েছে।”
ভারতে সফররত অবস্থায় এরশাদ সেদেশের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে থাকেন।
শনিবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কাজী জাফর আহমেদ ও এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারসহ দলের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রেসিডিয়াম সদস্য তাকে স্বাগত জানান। এছাড়া বিমানবন্দরের বাইরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গত সোমবার ভারত সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে হঠাৎ এই সফরে যান এরশাদ।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন