অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের জন্য ‘ক্ষতিকর’ প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চায় না এবং এখনো দখল করেনি। অথচ সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চায়— এ ধরনের মিথ্যাচার করছেন ড. ইউনূস।
গতকাল রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ: উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সরকার গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেনি কিংবা পর্যন্ত দখল করেনি। ইউনূস সাহেব গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হতে না পেরে মিথ্যা বলছেন, মিথ্যাচার করছেন, প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছেন। ইউনূস সাহেব সঠিক
কথা বলছেন না। ইউনূস সাহেব আননেসেসারি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছেন। ইটস হার্মফুল ফর কান্ট্রি।’
মুহিত বলেন, ইউনূস সাহেব যাওয়ার পর গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে— এ রকম প্রপাগাণ্ডা চালানো হচ্ছে। কিন্তু গত ১০ বছরের মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের এখন সবচেয়ে ভালো সময় চলছে। সরকার বাধ্য হয়ে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ সংশোধন করেছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস এমনভাবে আইন করেছিলেন, যাতে তিনি সারা জীবন গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থাকেন। আমরা সেই আইন পরিবর্তন করেছি। ব্যাংক দখলের উদ্দেশ্যে এটা করা হয়নি।
দেশে ক্ষুদ্র ঋণের বিস্তারে নিজে অবদান রেখেছেন বলেও দাবি করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ইউনূস সাহেব ক্ষুদ্র ঋণের জন্য নমস্য। কিন্তু ক্ষুদ্র ঋণের আরও একজন লোক আছে, যিনি এখানে বসে আছেন। সেটা হচ্ছে আমি। ইউনূস সাহেব ক্ষুদ্র ঋণের প্রসারকে ৪, ১০ বা ১২ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে গেছেন। আমি সেটাকে ৩০ পর্যন্ত নিয়ে গেছি। আমি কোনো প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করিনি। এ সময় গ্রামীণ ব্যাংকের পাশাপাশি পদ্মা সেতু নিয়েও সমস্যায় আছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।’
চেয়ারপারসনের বক্তব্যে টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতি বাংলাদেশের সবাই করে না। ব্যক্তিগতভাবে এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের ওপর বর্তিত দায়িত্ব আমরা কীভাবে পালন করছি সেটিই বিবেচ্য বিষয়। আমাদের অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, যাতে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে পাই।
গোলটেবিলে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির গবেষক দিপু রায়। তিনি বলেন, হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের প্রতিটি স্তরে ঘুষ দিতে হয়। কোনো বিল, প্রকল্প ও ঠিকাদারি কাজের বিলের ওপর ৫ থেকে ১০ শতাংশ ঘুষ দিতে হয়। টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন টিআইবির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান, অর্থ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক আহমেদ আতাউল হাকিম, সাবেক সিজিএ মো. সাহাদ চৌধুরী ও ভারপ্রাপ্ত সিজিএ মো. আনিসুর রহমান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন