মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামকে গ্রেফতারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশের পর বড় মগবাজার এলাকায় তার বাসায় ঢুকেছে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মসিউর রহমান জানালেন, ‘‘আজহার সাহেবের বাসার সামনে পুলিশের ২৫ সদস্যের একটি দল প্রস্তুত রয়েছে। গ্রেফতারের লিখিত আদেশ হাতে পাওয়া মাত্রই ওনাকে গ্রেফতার করা হবে।’’
কয়েকদিন আগে অন্য একটি মামলায় জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই আজহারুল ইসলামের বাসভবন ঘেরাও করে রেখেছিল পুলিশ। বুধবার সকালে অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতারের আবেদন জানানোর পর আজহারের বাসভবন ঘিরে রাখা পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়।
পরে ১২টার দিকে আজহারের বাসায় ঢোকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। ৯১/বি বড়মগবাজারস্থ ‘এফ টাওয়ার’ অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে তার বাসার সামনে পুলিশের কয়েকজন কনস্টেবল আছেন। ভবনটির ৬ তলায় আজহারের বাসায় এখন পর্যন্ত গোয়েন্দা পুলিশের দলটি অবস্থান করছে। ভেতরে থাকা পুলিশের একজন উপপরিদর্শক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গ্রেফতারের কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সারতেই দেরি হচ্ছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে লিখিত আদেশ পেলে গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালেই সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে এই জামায়াত নেতাকে।
ঈদুল ফিতরের ছুটির পর বুধবার আদালত খুললে ১ নম্বর ট্রাইব্যুনালে এই গ্রেফতারের আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে এ নির্দেশন দেন নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার সকালে ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করে তাকে গ্রেফতারের আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নুরজাহান বেগম মুক্তা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাঙালি নিধনে পাক হানাদার বাহিনীর সহায়তায় গঠিত কুখ্যাত রাজাকার-আলবদর বাহিনীর নেতৃস্থানীয়দের অন্যতম আজহারুল ইসলাম।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন