নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায় বাংলাদেশ লোক ও কারম্নশিল্প ফাউন্ডেশনের (সোনারগাঁও জাদুঘরের) কারুপল্লীতে নতুন করে ১৩টি স্টল বরাদ্দে চরম অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোন ধরনের যাচাই বাছাই ছাড়াই ৫শ’ আবেদনকারীকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের পরিচালক একক সিদ্ধান্তে মোটা অঙ্কের টাকা উৎকোচ নিয়ে এসব স্টল বরাদ্দ দিয়েছেন। এমনকি স্টল বরাদ্দের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হলেও সদস্যদের কোন মতামত নেওয়া হয়নি। পরিচালকের গাড়ির চালকের ছোট ভাই ও শ্যালিকার নামেও দু’টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিস্তে ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সরকার দলীয় এমপি সোমবার স্টল বরাদ্দ কার্য্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গেছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভেতরে অবস্থিত কারুপল্লীকে সমপ্রতি নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়। গত মাসে এ কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন নির্মিত ১৩টি স্টলসহ মোট ৪৮টি স্টল বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
প্রকৃত কারুশিল্পীদের স্টল বরাদ্দ দিতে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। স্টল বরাদ্দ পেতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫শ’ আবেদন জমা পড়ে বলে ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়।
এখন অভিযোগ উঠেছে, ফাউন্ডেশনের পরিচালক রবীন্দ্র গোপ গোপনে স্টল প্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা করে উৎকোচ নিয়ে ১৩টি স্টল বরাদ্দ দিয়েছেন। তাছাড়া কারুপল্লীতে আগে থেকেই স্টল আছে তাদের মধ্যে ইব্রাহিম, সোহেল ও ওসমানসহ ছয় জন মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে অন্য নামে আবারো একাধিক স্টল বরাদ্দ পেয়েছেন।
একাধিকবার পুরস্কারপ্রাপ্ত কারুশিল্পী আউয়াল মোলস্না এ ব্যাপারে অভিযোগ করে বলেন, আমি দীর্ঘ ৪৩ বছর যাবৎ কাঠ খোদাই কারুশিল্পের সঙ্গে জড়িত। আমার ১১ শতাংশ জমি যাদুঘরের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। অথচ পরিচালক আমাকে বারবার স্টল দেওয়ার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত কথা রাখেননি।
অভিযোগের ব্যপারে জানতে চাইলে স্টল বরাদ্দে গঠিত কমিটির আহবায়ক আজাদ সরকার বলেন, আমরা কমিটিতে থাকলেও সব সিদ্ধানত্ম নিয়েছেন পরিচালক নিজে। এড়্গেত্রে আমাদের কিছুই করার ছিল না।
তিনি আরো জানান, বাংলাদেশ লোক ও কারু শিল্প ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কারম্ন শিল্পীদের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ করা, জনসাধারণের কাছে তা প্রদর্শন ও বিপণনের ব্যবস্থা করে দেওয়া।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, স্টল বরাদ্দের ব্যাপারে পরিচালক কারো মতামত গ্রহণ করেনি। আমরা প্রকৃত কারুশিল্পীদের স্টল বরাদ্দ দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিলেও তার এক গুঁয়েমির কারনে তা সম্ভব হয়নি।
দেশের একমাত্র লোক ও কারম্নশিল্প ফাউন্ডেশন্ডেন এটি। এখানে প্রকৃত কারম্নশিল্পীরা স্টল বরাদ্দ পাওয়ার কথা থাকলেও একজন কারুশিল্পীকেও কারুপল্লীতে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হযনি।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি বোর্ডের একজন সদস্য হলেও স্টল বরাদ্দের ব্যাপারে তাকে কিছুই জানানো হয়নি।
এ ব্যাপারে আব্দুল্লাহ আল কায়সার বলেন, স্টল বরাদ্দের ব্যাপারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ আমি পেয়েছি। আমি ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষকে আপাতত বরাদ্দ স্থগিত রাখার নিদের্শ দিয়েছি। পরবর্তীতে যাচাই বাছাই করে প্রকৃত কারুশিল্পীদের মধ্যেই স্টল বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে পরিচালক রবীন্দ্র গোপের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন