টাঙ্গাইল শহেরে হাতুরে ও পল্লী চিকিৎসকের দৌরাত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা গ্রামাঞ্চলে না গিয়ে শহরে এসে বিভিন্ন ভাবে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আর এ কারনে রোগীদের উপকার না হয়ে ক্ষতিটাই বেশী হচ্ছে। তার পরও রোগীরা ভির জমাচ্ছে সেইসব পল্লী চিকিৎসক ও হাতুরে ডাক্তারদের কাছে। অথচ তাদের অভিজ্ঞতার সনদ বা ডাক্তারি সার্টিফিকেট কিছুই নেই। তারা নিজেদেও ভিজিটিং কার্ড ও সাইনবোর্ডে অনায়াসে এম বি বি এস, সি. এম. ইউ বা এম ডি লিখে প্রচার করছে। এভাবেই তারা শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে একটি বসার জন্য কোন জায়গায় বা কিছু ক্লিনিকে বসে সেখান থেকেই দিনের পর দিন প্রতারনা করে যাচ্ছে। অথচ এ বিষয়ে দেখার যেন কেউ নেই। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলল শহরের ময়মনসিংহ রোডে অবস্থিত দয়াল ডায়াগনষ্টিক এন্ড হাসপাতালে প্রতিশুক্রবার এমনি একজন ডাক্তার বসেন যার কোন সার্টিফিকেট নেই। অথচ তিনি (ডাঃ মোঃ শরীফুর রহমান) অনায়াসে রোগীদের আকৃষ্ট করার জন্য সাইনবোর্ডে বা ভিজিটিং কাডে এম বি বি এস বা এমডি (ভারত) লিখে রেখেছেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের ময়মনসিংহ রোডে সদর হাসপাতালের দক্ষিনে দয়াল ডায়াগনষ্টিক এন্ড হাসপাতালে বসেন পাইলস চিকিৎসক নামে পরিচিত ডাঃ মোঃ শরীফুর রহমান। তিনি প্রতি শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রোগী দেখেন। এই সময়ের মধ্যে কারো সাথে তিনি কথা বলেন না। কারন শুক্রবার রোগীদের এতটাই ভীর থাকে যে তার সাথে কথা বলাটাই কষ্টকর। তিনি প্রতি রোগীর কাছ থেকে ভিজিট নেন ১২/১৩শ’ টাকা। অথচ তার পাইলস চিকিৎসায় নেই কোন অভিজ্ঞতা বা তিনি বিএমএর কোন সদস্যও নন। শুধু তাই নয় বাংলাদেশ কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতি কি সেটাও তিনি জানেন না। তিনি কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই কিভাবে পাইলস এর চিকিৎসা করেন সেটা নিয়ে বিভিন্ন ডিগ্রীধারি ডাক্তারের মনে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন ঐসব চিকিৎসকদের কারনে আমাদের সুনাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কারন তারা বিভিন্ন ভাবে রোগীদের সাথে প্রতারনা করে। কিন্তু দোষ হয় সব ডাক্তারের। ডাঃ মোঃ শরীফুর রহমান ও তার স্ত্রী (মহিলাদের জন্য) দীর্ঘ দিন যাবত পাইলস এর চিকিৎসা দিয়ে চলেছেন। তার চিকিসার ধরন হচ্ছে ইনজেকশন, কেমিক্যাল ও এসিড। যা মানুষের শরীরে অতান্ত পর্শকাতর। তিনি ইনজেকশটি মানুষের শরীরে সরাসরি পুষ করে পাইলসটি পুড়িয়ে দেন। তাতেই রোগীরা মনে করেন তার পাইলস ভাল হয়ে গেছে। অথচ এই ইনজেশনের ফলে পরবর্তীতে রোগীর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশী থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন