র্যাবের কথিত গুলিতে ঝালকাঠির রাজাপুরের কলেজ ছাত্র লিমন হোসেন পা হারালেও মামলার তদন্তে র্যাবের সম্পৃক্ততা খুঁজে পায়নি পুলিশ।
র্যাবের বিরুদ্ধে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগমের দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজাপুর থানার উপ-পরিদর্শক হালিম তালুকদার।
গত মঙ্গলবার জেলার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম নুসরাত জাহানের আদালতে এ প্রতিবেদন দাখিল করলেও বুধবার বিকালে সাংবাদিকদের কাছে এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ওই কর্মকর্তা। প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই মামলা থেকে র্যাবের ডিএডি লুত্ফর রহমানসহ ৬ র্যাব সদস্যকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
গত বছরের ২৩ মার্চ রাজাপুরের সাতুরিয়ায় নিজের বাড়ির সামনে পায়ে গুলিবিদ্ধ হন লিমন। পরে তার পা কেটে ফেলতে হয়। এ ঘটনায় র্যাব উল্টো লিমনের বিরুদ্ধে ২টি মামলা করলে লিমনের মা গত বছরের ১০ এপ্রিল ডিএডি লুত্ফর রহমানসহ ৬ র্যাব সদস্যকে আসামি করে রাজাপুর থানায় একটি মামলা করেন।
অনেক গড়ি-মসির পর রাজাপুর থানা মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করলেও দীর্ঘ প্রায় দেড় বছর পর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে র্যাবকে নির্দোষ প্রমাণ করা হলো।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হালিম তালুকদার জানান, এতদিন মামলাটি সরেজমিনে ও বিভিন্নভাবে তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু র্যাবের বিরুদ্ধে মামলার বাদি হেনোয়ারা বেগমের আনা কোন অভিযোগই সত্য প্রমাণিত হয়নি। সে কারণে এই মামলায় অভিযুক্ত র্যাব সদস্যদের ‘নিরপরাধ’ উল্লেখ করে মঙ্গলবার আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
এ খবরে লিমনের মা হেনোয়ারা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি আগেই জানতাম, র্যাবের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তে পুলিশ কোনদিনই র্যাবকে দোষীসাব্যস্ত করবে না। আমার ছেলেকে পঙ্গু করা র্যাব সদস্যরা এভাবে পার পেয়ে যাবে- তা আমি ভাবতেও পারিনি।
পা হারানো লিমন হোসেন বলেন, ‘আমাকে পঙ্গু করার পর ভেবেছি র্যাবের সদস্যদের বিচার হবে। কিন্তু তাও আর হলো না। উল্টো তাদের করা মামলার ঘানি টানতে হচ্ছে আমাকে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন