পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতার করে আদালতে না পাঠিয়ে দুদক কার্যালয়ে ৮ ঘণ্টা আটক রেখে ডেসটিনির একজন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারের পর দ্রুত আদালতে হাজির করার বিধান থাকলেও এ ক্ষেত্রে তা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন সিনিয়র আইনজীবীরা। দুদক আইনে রুজুকৃত মামলায় দুদকেরই নিয়োজিত তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদের কোনো বিধানও নেই দুদক আইনে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমানের কাছে কোনো অভিযোগের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুজুকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োজিত হওয়ার বিধান দুদক আইনে রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে দুদক আইনটির বর্ণনা তাৎক্ষণিক জানাতে পারেননি। দুদক আইনের মামলায় আটকের পর আদালতের আদেশ ছাড়া কাউকে একটানা ৮ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের বিধান থাকার বিষয়েও কোনো সন্তোষজনক জবাব দেননি দুদক চেয়ারম্যান।
দুদকের মুখপাত্র ও উপপরিচালক প্রণব কুমার ভট্টাচার্য গতকাল দুপুরে সাংবাদিকদের জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ডেসটিনি কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন ক্রাউন এক্সিকিউটিভ। পল্টনের শাওন টাওয়ারে রয়েছে তার অফিস।
অনেকের ধারনা, কোনো বিশেষ মহলের আজ্ঞাবহ হয়েই উদ্দেশ্যমূলকভাবে আবুল কালাম আজাদকে গভীর রাতে অসৌজন্যমূলকভাবে পল্টনের নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দাফতরিক সময় শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আদালতে হাজির না করে কথিত অভিযোগের অনুসন্ধানকারী, মামলা রুজুকারী এবং দুদক মনোনীত ওই মামলারই তদন্ত কর্মকর্তা নিজে আইনবহির্ভূতভাবে অবিরাম প্রায় ৮ ঘণ্টা সেগুনবাগিচার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ওই কর্মকর্তাকে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। দুদক আইন ছাড়াও দেশের প্রচলিত আইনে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রুজুকৃত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান নেই। দুদক আইনে রুজুকৃত মামলায় আটক কোনো ব্যক্তিকে দুদক নিয়োজিত তদন্ত কর্মকর্তা কর্তৃক জিজ্ঞাসাবাদেরও বিধান নেই। তবে আদালত অনুমতি দিলে এ ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ করার বিধান আইনে বিদ্যমান।
সূত্র জানায়, ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (ডিএমসিএসএল) কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদকে গত সোমবার রাত আড়াইটায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা পল্টন থানা পুলিশের সহযোগিতায় পুরানা পল্টনের নিজ বাসভবন পল্টন টাওয়ার থেকে গ্রেফতার করেন।
রাজধানীর কলাবাগান থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত ৩১ জুলাই ডেসটিনির ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এজাহারভুক্ত ২১ নম্বর আসামি দেখানো হয় আবুল কালাম আজাদকে। গ্রেফতারের পর রাতেই পল্টন মডেল থানায় এবং গতকাল সকাল ৮টায় তাকে সেগুনবাগিচার দুদক কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে দুদকের সহকারী পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম এবং উপপরিচালক মোজাহার আলী সরদার বিকাল ৩টা পর্যন্ত অব্যাহতভাবে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন