উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হবে বলে ইকুয়েডর সরকার ঘোষণা করেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে থেকেই অ্যাসাঞ্জকে কেন্দ্র করে বৃটেন ও ইকুয়েডরের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে উঠেছে। খবর বিবিসি’র।
বৃহস্পতিবার বৃটিশ সরকার জানিয়ে দিয়েছে, পুলিশকে তারা এমন ক্ষমতা দিতে পারেন যাতে ইকুয়েডর দূতাবাসের ভেতর ঢুকে তারা সেখানে ঠাঁই নেয়া অ্যাসাঞ্জকে গ্রেফতার করতে পারে।
কিন্তু ইকুয়েডরের বক্তব্য, সেটা হবে কূটনৈতিক রীতিনীতির চরম লঙ্ঘন।
অ্যাসঞ্জ তার সুইডেন প্রত্যার্পণ এড়ানোর জন্য লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে গত দুমাস ধরে আশ্রয় নিয়ে আছেন।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা যখন লন্ডনে ইকুয়েডরের দূতাবাসে ঢুকে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন, বৃটেনের কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন যে তিনি পুলিশের আওতার বাইরে চলে গিয়েছেন। জামিনের শর্ত ভঙ্গ করার দায়ে দূতাবাসের বাইরে বেরুলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হতো।
সুইডেনে যৌন হয়রানি সংক্রান্ত এক মামলায় অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি প্ররোয়ানা জারি রয়েছে, এবং বৃটেন ও সুইডেনের মধ্যে বন্দী প্রত্যর্পণের চুক্তি রয়েছে।
এখন বৃটিশ সরকার বলছে, ১৯৮৭ সালের একট স্বল্প পরিচিত আইনের আওতায় দূতাবাসের মধ্যে ঢুকেই তাকে গ্রেফতার করা যায়।
ইকুয়েডর সরকার এই সরাসরি হুমকিকে একটি সভ্য গণতান্ত্রিক দেশের জন্য অনুপযুক্ত পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে। ইকুয়েডরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিকার্ডো প্যাটিনো বলেছেন, বৃটিশ পুলিশ তাদের লন্ডন দূতাবাসে জোরপূর্বকভাবে প্রবেশ করলে একে তারা শত্রুতামূলক কাজ বলে বিবেচনা করবেন।
রিকার্ডো প্যাটিনো বলেছেন, অ্যাসাঞ্জকে সুইডেনের হাতে তুলে দেয়া হলে সুইডেন তাকে আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করতে পারে বলে তাদের আশংকা।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। তার মা ক্রিস্টিন তার ছেলেকে সাহায্য করার জন্য অস্ট্রেলিয় সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলছেন, আমি মনে করি এই মুহুর্তে অন্যান্য দেশের উচিত ইকুয়েডরের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানানো।
‘ইকুয়েডরের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানাতে হবে’, বলেন ক্রিস্টিন অ্যাসাঞ্জ।
কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলছে, বৃটেনের আদালতের ওপরে তাদের কোনো বক্তব্য নেই। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল নিকোলা রক্সন বলছেন, তারা কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘‘অস্ট্রেলিয়ার কোনো নাগরিক যখন ভিন্ন একটি দেশের কাছে নিরাপত্তা চায় তখন আইনগতভাবে খুব বেশি কিছু করার সুযোগ থাকে না। ফলে আমাদের এখনকার কাজ প্রধানত কূটনৈতিক এবং কনসুলার সহায়তা দেওয়া, আইনগত নয়’’, বলছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল।
বৃটিশ পররাষ্ট্র দফতরের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন তারা এই সমস্যার একটি কূটনৈতিক সমাধানের আশা করছেন।
ইকুয়েডরের রাজধানী কিটোতে বৃটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা বলছেন তারা অ্যাসাঞ্জের পক্ষে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। কারণ, তারা একে ইকুয়েডরের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন বলে মনে করেন।
প্রতিবাদকারীরা বলছেন, তারাও জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়ার পক্ষে, একই সঙ্গে মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং যেসব দেশ সে ব্যাপারে হুমকি দিচ্ছে কিংবা ইকুয়েডরকে তাদের নতুন উপনিবশে বলে মনে করছে, তারও প্রতিবাদে তারা সোচ্চার হতে চান।
প্রসঙ্গত, আমেরিকার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনেক গোপনীয় দলিল অ্যাসাঞ্জের প্রতিষ্ঠিত বিকল্পধারার গণমাধ্যম- উইকিলিকসে প্রকাশিত হবার পর থেকে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক তৈরি হয়। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটির বর্তমান সরকার বামপন্থা ঘেষা নীতি অনুসরণ করে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন