বছর ঘুরে আবার ঈদ এসেছে। সঙ্গে নিয়ে এসেছে শান্তি, আনন্দ আর ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা। সব ভেদাভেদ ভুলে সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে এদিন মানুষ মানুষকে বুকে জড়িয়ে নেয়।
বিশ্ব মুসলমানের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবে সোমবার প্রাণবন্ত বাংলাদেশ। আর ঈদ আমাদের জীবনে যে সার্বজনীনবোধ আর ভ্রাতৃত্বের তৈরি করে, তা ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিদিনের পথ চলায়।
এমনই চাওয়া ও প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে এক মাস সিয়াম সাধনার পর রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ-উল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হলো।
এতে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানসহ ধর্মপ্রাণ লাখো মুসল্লি অংশ নেন। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েন সমাজের ভিন্ন স্তরের মানুষ। এ যেন সার্বজনীন মিলনের কথাই বলে। আর এ উৎসব যেন জীবনকে নতুন করে রাঙিয়ে তোলার, সাজিয়ে তোলার উৎসব।
সোমবার ভোর থেকেই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসও পূর্বাভাষে বলেছিল, বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা। তো হয়েছে কী!
হাইকোর্ট সংলগ্ন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে ঈদের প্রধান জামাত অংশ নিতে সকাল ৭টা থেকেই মুসল্লিরা আসতে থাকেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছাতা মাথায় নিয়ে তারা সারিবদ্ধভাবে ময়দানে প্রবেশ করতে থাকেন।
নিরাপত্তা আর শৃঙ্খলার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাবসহ প্রবেশ পথগুলোতে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে। আর সেখান থেকেই মুসল্লিরা লাইনে দাঁড়িয়ে হাঁটতে থাকেন।
কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী পার হতে হয় ময়দানে প্রবেশ করতে তাদের। তবে নামাজের কিছুক্ষণ আগে বেড়ে যায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি।
সকাল সোয়া ৮টার মধ্যে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান লাখো মুসল্লিতে ভরে যায়। যদিও বৃষ্টি আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উপস্থিতি সামান্য কম।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে এক কাতারে নামাজ পড়তে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সোয়া ৮টার দিকে ময়দানে এসে উপস্থিত হলে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাকে স্বাগত জানায়।
দেশের প্রধান এ জামাতে রাষ্ট্রপতি ছাড়াও অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, বিদেশি কূটনীতিবিদ, সরকারি উচ্চ পদস্থ কর্মচারী ও সামরিক বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা।
জাতীয় ঈদগাহে নামাজ ও দোয়া পরিচালনা করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া করা হয়, ভেদাভেদ ভুলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।
দোয়া শেষে রাষ্ট্রপতি বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় মুসল্লিরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
বাদ যায়নি নামাজে অংশ নিতে আসা শিশুদের শুভেচ্ছা বিনিময়ও। আর বড়দের সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়তে এসে তাদের ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ। আর মুহূর্তের মধ্যে জাতীয় ঈদগাহ ময়দান পরিণত হয় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মিলন মেলায়।
জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের প্রধান জামাত দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবে সুখ ও আনন্দ বার্তা এই প্রত্যাশা করেন এখানে নামাজ পড়তে আসা প্রতিটি মুসল্লির। তাদের সবার চাওয়া, ঈদের দিনের এই যে শুভবোধের চর্চা, তা ছড়িয়ে যাক প্রতিটি মানুষের, প্রতিদিনের জীবনে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন