চারঘাটে একটি আন্তঃনগর ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় প্রায় ২০ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাজশাহীর সঙ্গে ঢাকা ও খুলনার রেল চলাচল শুরু হয়েছে।
ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রেলের সময়সূচিতে দেখা দিয়েছে বিপর্যয়। রাজধানী ও উত্তরবঙ্গের মধ্যে চলাচলকারী প্রায় প্রতিটি ট্রেন কয়েক ঘণ্টা করে বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে রোজার মধ্যে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ইদে ঘরমুখো যাত্রীদের।
রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে চারঘাট উপজেলার সারদা স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে। ফলে খুলনা ও চিলাহাটি থেকে রাজশাহীমুখী এবং রাজশাহী থেকে চলাচলকারী সব রুটের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
রাজশাহীর স্টেশন মাস্টার জাহিদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত শেষে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে রাজশাহী থেকে ট্রেন চলাচল আবার শুরু হয়।
এ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকার পথে রওনা হয় পদ্মা এক্সপ্রেস। সোয়া ৫টার দিকে সারদা স্টেশন থেকে ৫০ গজ দূরে এটি লাইনচ্যুত হয় বলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপ-সহকারী প্রকৌশলী জলিল উদ্দিন আহমেদ জানান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “ট্রেনের পেছনের দুটি এসি বগি ও একটি খাবারের বগি কাত হয়ে উল্টে যায়। এ সময় রেল লাইনের স্লিপার উঠে যায়।”
দুর্ঘটনায় ১৫ জন আহত হন। তবে লাইনচ্যুত বগিগুলো রেখেই ট্রেনটি ঢাকায় রওনা হয়। রাতে বন্ধ থাকলেও সকাল থেকে বিকল্প পদ্ধতিতে ঢাকার ট্রেনগুলো চালু রাখা হয় বলে স্টেশন মাস্টার জানান।
তিনি বলেন, রাজশাহী স্টেশন থেকে ঢাকাগামী যাত্রীদের একটি ট্রেনে করে সারদা স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। এরপর সেখান থেকে তাদের নিয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রেন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করে। একইভাবে ঢাকার যাত্রীদের সারদা স্টেশনে নামিয়ে অন্য ট্রেনে করে রাজশাহী পাঠানো হয় বলে জাহিদুল ইসলাম জানান।
তিনি বলেন, পদ্মা এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন গন্তব্যের তিনটি ট্রেন বাতিল করা হয়। অন্য ট্রেনের অনেক যাত্রীও টিকেট ফেরত নিয়ে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
ঢাকায় কমলাপুর রেল স্টেশনের রিজার্ভেশন সহকারী মাজহারুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রাজশাহীর দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা-রাজশাহী-লালমনিরহাট, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-দিনাজপুর-নিলফামারী লাইনের প্রতিটি ট্রেন দুই থেকে তিন বিলম্বিত হয়।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম-নোয়াখালী, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ লাইনের ট্রেনগুলো বিলম্বিত হয় আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা করে।
বেলা ১১টায় কমলাপুর স্টেশনে জামালপুরগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেসের অপেক্ষায় থাকা সিদ্দিক আহমেদ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, “সকাল ৯টা ২০ এ ট্রেন ছাড়ার কথা। কিন্তু কেউ কিছু বলতে পারছে না। আমাকে বলেছে ১১টায় ট্রেন ছাড়বে, এখনো ছাড়লো না। আবার কাউকে কাউকে বলেছে ১২টার পর ছাড়বে। কি করব বুঝতে পারছি না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন