ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা সৈয়দ আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বৃহস্পতিবার তেহরানে ষোলতম জোট নিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলন (ন্যাম) উদ্বোধন করেন। উত্তরাঞ্চলীয় তেহরানের লীডার্স সামিট হলে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় দু’দিনব্যাপী ১৬- জাতি শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়। বার্তা সংস্থা ফারস এ খবর দিয়েছে।
ন্যাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিশেষজ্ঞদের দু’দিনব্যাপী বৈঠক শেষে শীর্ষ সম্মেলন শুরু হলো। সম্মেলনে ১২০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও মিসরের নয়া প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিসহ প্রায় ৫০ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান যোগদান করেছেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনও এসেছেন। তিনি বুধবার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদি নেজাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
ইরান আগামী তিন বছর জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের নেতৃত্বকে ইরান তার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে উঠার একটি সুযোগ হিসাবে ব্যবহার করবে। উদ্বোধনী ভাষণে সৈয়দ আলী খামেনি বলেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরিতে ইরানের কোনো আগ্রহ নেই। তবে তার দেশ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, আমাদের নীতি হচ্ছে সকলের জন্য পরমাণু জ্বালানির অধিকার। কারো জন্য পরমাণু অস্ত্র নয়। খামেনি তার ভাষণে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমালোচনা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য জাতির ওপর অতীতের এ আবর্জনাকে তার নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেয়ার জন্য ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, আমেরিকানরা মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়। মানবাধিকার বলতে তারা পাশ্চাত্যের স্বার্থকে বুঝায়। তারা গণতন্ত্রের কথা বলে। তাদের গণতন্ত্র হচ্ছে অন্য দেশে সামরিক আগ্রাসন।
মিসরের প্রেসিডেন্ট মুরসির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তার বক্তব্যের প্রতিবাদে সিরীয় প্রতিনিধি দল সম্মেলনস্থল ত্যাগ করে বাইরে বের হয়ে যায়। প্রেসিডেন্ট মুরসি প্রেসিডেন্ট আসাদকে অপসারণে নিয়োজিত সিরীয় জনগণকে সহায়তা দেয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন