Desh News: বরিশাল রেঞ্জের আলেচিত সেই ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে পিরোজপুর সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওসি হিসেবে অদক্ষতা, ঘুষ গ্রহন, আসামী ধরে এনে নির্যাতন ও বিভাগীয় প্রসিডিং থাকাসহ তার বিরুদ্ধে না না অভিযোগ থাকায় সোমবার তাকে প্রত্যাহার করে পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সরকারি দলের এক প্রভাবশালী নেতার তদবিরে এ বছরের গোড়ার দিকে ওসি জাহাঙ্গীর পিরোজপুর সদর থানায় যোগদান করেন। তাকে ওই নেতা নির্দেশমত কাজ করতে হবে বলে পিরোজপুর সদর থানায় আনা হয়। যে কথা সে কাজ। যোগদানের পর থেকেই জাহাঙ্গীর হোসেন ওই নেতার কথমত ব্যক্তি শত্রম্ন ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে থানায় ধরে এনে তার উপর নির্যাতন শুরম্ন করে। আরও জানা যায়, সরকারি দলের ওই নেতার অন্যতম টার্গেট ছিল স্থানীয় বেশ কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিকদের। তাদেরকেও শায়েসত্মা করার জন্যও ওসি জাহাঙ্গীরকে পিরোজপুরের আনা হয়। কিন্তু বিধি বাম, কয়েকমাস যেতে না যেতেই নিজের জালেই ধরা পরলেন জাহাঙ্গীর হোসেন। সম্প্রতি পিরোজপুর জেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহবায়ক মারম্নফ হাসানকে থানায় ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালালে মারম্নফ বাদী হয়ে তার বিরম্নদ্ধে পিরোজপুরের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। ১৫ এপ্রিল মারম্নফকে গ্রেফতার করে পিরোজপুর থানায় নির্যাতনের পর ১৬ এপ্রিল তাকে দু’জনে ধরাধরি করে আদালতে হাজির করা হয়। দু’জনের সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারছে না দেখে পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌধুরী মাহাবুবুর রহমান মারম্নফের আহতের কারণ জানতে চান। এ সময়ে মারুফ অভিযোগ করেন ওসি জাহাঙ্গীরসহ অন্য কয়েক পুলিশ তার দু’হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বেদম পেটায় এতে সে মারাত্মক আহত হয়। এর পর ম্যাজিস্ট্রেট নিজে মারম্নফের শরীর পরীক্ষা করে দেখতে পান তার উরম্ন, নিতম্ব, হাত, পা, মাথা, ঘার, কান সব খানেই ফুলা ও জখমের চিহ্ন। মারম্নফ কিভাবে আহত হলো, কিভাবে তার শরীরে জখম হলো এর সমেত্মাষজনক ব্যাখ্যা দিতে ম্যাজিস্ট্রেট মাহাবুবুর রহমান এক আদেশে ওসি জাহাঙ্গীরকে সশরীরে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে মারম্নফ সুস্থ হয়ে ওসি জাহাঙ্গীরের বিরম্নদ্ধে ওই মামলা করেন। এছাড়া অতি সম্প্রতি পিরোজপুর সদরের সিকদার মলিস্নক ইউনিয়নে এক বৃদ্ধা খুন হন। সেই খুনের মামলার বিভিন্ন সাক্ষীকে থানায় ডেকে এনে ওসি জাহাঙ্গীর তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ঘুষ দাবী করেন বলে ওই ইউনিয়নে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আইন শৃঙ্খলা মিটিং-এ এলাকাবাসী অভিযোগ করেন। অন্যদিকে একই এলাকার টক্ষক সাপ শিকারীদের জেল খাটানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ৮৫ হাজার টাকা ঘুষ নেন। এ ব্যাপারে শিকারীরা অভিযোগ করলে এ টাকার বড় একটি অংক ফেরৎ দিলেও বাকী টাকা জাহাঙ্গীর আত্মসাত করেন।
ওসি জাহাঙ্গীরের পূর্বের কর্মস্থল জেলার ক্ষুদ্র উপজেলা জিয়ানগরে থাকাকালে জেলা সদরের দু’জন সাংবাদিকের নামে চাঁদাবজীর মিথ্যা মামলা গ্রহণ করেন। এর আগে বরিশাল কোতাওয়ালী থানার ওসি থাকাকালীন তুচ্ছ ঘটনায় সাংবাদিকদের উপর চড়াও হয়ে লাঠিপেটা করে মাথা ফাটানোসহ হাত-পা ভেঙ্গে দেয়। এরপর সকল সাংবাদিকরা তার বিরম্নদ্ধে শাসিত্ম দাবি করে লিখিত অভিযোগ করেন। এমন কি মিছিলও বের করা হয়। পরে জাহাঙ্গীরকে সেখান থেকে পিরোজপুরের জিয়ানগরে বদলী করা হয়। এরপরই তিনি নজরে আসে সরকারি দলের এক প্রভাবশালী প্রতিনিধির। তিনিই তার প্রতিপক্ষদের শায়েসত্মা করার জন্য পিরোজপুর সদর থানায় আনে। ওসি জাহাঙ্গীর এখানে আসার পর সরকারি দলের ওই নেতার প্রিয়ভাজন হওয়ার সুবাধে পুলিশের চেইন অব কমান্ড পর্যমত্ম মানতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের এক আদেশে তাকে সদর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
ওসি জাহাঙ্গীরের প্রত্যাহারের বিষয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার এস. এম. আক্তারুজ্জামান উক্ত বিষয় স্বীকার করে জানান, সদর থানার ওসি হিসেবে তিনি অযোগ্য ও তার বি্রুদ্ধে বিভাগীয় প্রসিডিং রয়েছে বিধায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন