বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী নিজে থেকে পাহাড়িদের অধিকার নিশ্চিত করবে না মন্তব্য করে অধিকার আদায়ে লড়াই-সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হতে বলেছেন পাহাড়ি নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে এক সমাবেশে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বলেন, “অগণতান্ত্রিক উগ্র জাতীয়তাবাদী এ সরকারকে দিয়ে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।”
“গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সরকার না এলে আদিবাসীদের প্রতি এ শোষণ-বঞ্চনা চলতে থাকবে,” যোগ করেন তিনি।
পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নসহ পাহাড়িদের মৌলিক দাবি পূরণে সরকার ‘দ্বিধাগ্রস্ত’- এমন মন্তব্য করে সন্তু লারমা বলেন, “অধিকার এমনিতে পাওয়া যায় না। লড়াই-সংগ্রাম করে তা পেতে হয়। সেই লড়াই-সংগ্রামের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।”
আগের দিন এক অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যার সমাধান না হলে ফের পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা।
তিনি বলেন, “মানুষের জীবনধারা পরিবর্তনশীল। পাহাড়ে এক সময় সংঘাত ও বিতর্কের অবসান হয়েছে। আবার কোনো দিন তার সূচনাও হতে পারে।”
স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে পাহাড়িদের সশস্ত্র সংগ্রামে দুই যুগ আগেও অশান্ত ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম। শান্তি বাহিনী নামে ওই সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সন্তু লারমা।
১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরে পাহাড়িরা। গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, যার চেয়ারম্যান হন সন্তু লারমা।
তবে ভূমি বিরোধসহ ওই চুক্তির সব ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির।
সভায় ক্ষমতাসীন মহাজোট শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, “সংবিধানে আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে যে ভুল হয়েছে, আবার সংশোধনী এনে আদিবাসী নাম দিয়ে তা সংশোধন করতে হবে।”
সরকার আদিবাসীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “এই বিরোধ মঙ্গলজনক নয়।”
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনে আদিবাসী স্বীকৃতি দাবি করেছিল জনজাতি গোষ্ঠীগুলো। তবে তা উপেক্ষিত হয়। সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন না করার সমালোচনাও করে আসছেন সন্তু লারমা।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “সারা দুনিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালন হচ্ছে। বর্তমান সরকারের নেতৃবৃন্দ অন্যান্য সময় গেঞ্জি গায়ে আদিবাসীদের সঙ্গে র্যালিতে অংশ নিলেও এবার তারা নেই। হঠাৎ করে আদিবাসীরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হয়ে গেল, তা বোঝা গেল না।”
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার কথা থাকলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা আদিবাসী শব্দ উচ্চারণে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে আদিবাসী নেই।
সভায় লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ সংবিধানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবর্তে আদিবাসী শব্দ সংযোজনের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমি নিজে বৃহৎ গোষ্ঠীর লোক হওয়ায় লজ্জিত বোধ করছি, আরো লজ্জিত বোধ করছি এই দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করতে না পারায়।”
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, “এ দেশে আদিবাসী ছিল, থাকবে।”
এর আগে বেলুন উড়িয়ে রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এন্ড্রো বার্নাড আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, গণ ঐক্যের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্ট্রচার্য্য, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে এক সমাবেশে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা বলেন, “অগণতান্ত্রিক উগ্র জাতীয়তাবাদী এ সরকারকে দিয়ে আদিবাসীদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না।”
“গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সরকার না এলে আদিবাসীদের প্রতি এ শোষণ-বঞ্চনা চলতে থাকবে,” যোগ করেন তিনি।
পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নসহ পাহাড়িদের মৌলিক দাবি পূরণে সরকার ‘দ্বিধাগ্রস্ত’- এমন মন্তব্য করে সন্তু লারমা বলেন, “অধিকার এমনিতে পাওয়া যায় না। লড়াই-সংগ্রাম করে তা পেতে হয়। সেই লড়াই-সংগ্রামের জন্য আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।”
আগের দিন এক অনুষ্ঠানে পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যার সমাধান না হলে ফের পরিস্থিতি অশান্ত হতে পারে বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমা।
তিনি বলেন, “মানুষের জীবনধারা পরিবর্তনশীল। পাহাড়ে এক সময় সংঘাত ও বিতর্কের অবসান হয়েছে। আবার কোনো দিন তার সূচনাও হতে পারে।”
স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে পাহাড়িদের সশস্ত্র সংগ্রামে দুই যুগ আগেও অশান্ত ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম। শান্তি বাহিনী নামে ওই সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সন্তু লারমা।
১৯৯৭ সালে শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি করে অস্ত্র ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরে পাহাড়িরা। গঠিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ, যার চেয়ারম্যান হন সন্তু লারমা।
তবে ভূমি বিরোধসহ ওই চুক্তির সব ধারা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, যা নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির।
সভায় ক্ষমতাসীন মহাজোট শরিক জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, “সংবিধানে আদিবাসীদের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বলে যে ভুল হয়েছে, আবার সংশোধনী এনে আদিবাসী নাম দিয়ে তা সংশোধন করতে হবে।”
সরকার আদিবাসীদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “এই বিরোধ মঙ্গলজনক নয়।”
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনে আদিবাসী স্বীকৃতি দাবি করেছিল জনজাতি গোষ্ঠীগুলো। তবে তা উপেক্ষিত হয়। সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালন না করার সমালোচনাও করে আসছেন সন্তু লারমা।
সংবিধান সংশোধন কমিটির সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “সারা দুনিয়ায় রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী দিবস পালন হচ্ছে। বর্তমান সরকারের নেতৃবৃন্দ অন্যান্য সময় গেঞ্জি গায়ে আদিবাসীদের সঙ্গে র্যালিতে অংশ নিলেও এবার তারা নেই। হঠাৎ করে আদিবাসীরা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী হয়ে গেল, তা বোঝা গেল না।”
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার কথা থাকলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর তারা আদিবাসী শব্দ উচ্চারণে অনীহা প্রকাশ করে আসছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশে আদিবাসী নেই।
সভায় লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ সংবিধানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবর্তে আদিবাসী শব্দ সংযোজনের দাবি জানিয়ে বলেন, “আমি নিজে বৃহৎ গোষ্ঠীর লোক হওয়ায় লজ্জিত বোধ করছি, আরো লজ্জিত বোধ করছি এই দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করতে না পারায়।”
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির বলেন, “এ দেশে আদিবাসী ছিল, থাকবে।”
এর আগে বেলুন উড়িয়ে রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি এন্ড্রো বার্নাড আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, গণ ঐক্যের আহ্বায়ক পঙ্কজ ভট্ট্রচার্য্য, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন