সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকা-ের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির অভিমত, তদন্ত কাজের এভাবে দ্রুত অগ্রগতি হলে অচিরেই ঘাতকদের খুঁজে বের করা সম্ভব হবে। তবে কমিটির গত সভায় এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল কমিটি।
এদিকে সাংবাদিক দম্পতির মধ্যে রুনির পরিবার র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) তদন্ত কাজে কোনো ধরনের সহযোগিতা করছে না বলে কমিটির কাছে অভিযোগ জানিয়েছে র্যাব কর্তৃপক্ষ। অভিযোগে বলা হয়, সাংবাদিক দম্পতির বেঁচে যাওয়া একমাত্র সন্তান মেঘকে কাউন্সিলিং করাতে ওই পরিবার সহযোগিতা করছে না। এ ছাড়া বরিশালের ঝালকাঠিতে র্যাবের গুলিতে পা হারানো কলেজছাত্র লিমন সন্ত্রাসীদের সোর্স ছিলেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তাতে র্যাব ও পুলিশের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বৈঠকে এই কথা বলেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। লিমন র্যাবের সোর্স ছিলেন এ অভিযোগে স্থানীয় ইব্রাহিম নামে এক ব্যক্তি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, মাছরাঙা ও এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি রাজাবজারের বাসায় ঘাতকের হাতে নিহত হন। এ ঘটনায় প্রথমে পুলিশ তদন্ত করলেও আদালতের নির্দেশে বর্তমানে র্যাব তদন্ত করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইতিমধ্যে র্যাবের পক্ষ থেকে অভিযোগ জানানো
হয়েছে, রুনির পরিবার তাদের তদন্ত কাজে সহযোগিতা করছে না।
গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির ৪০তম সভায় আলোচনায় ওইসব তথ্য উঠে আসে বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়। কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, হুইপ মির্জা আজম, মো. মুজিবুল হক, মো. হাবিবর রহমান, মো. নুরুল ইসলাম সুজন এবং মো. সফিকুল ইসলাম অংশ নেন।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাংবাদিকদের জানান, সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। আশা করছি অচিরেই ঘাতকদের খুঁজে পাওযা যাবে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে পুলিশের উপঢৌকন নেওয়ার বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটি বলেছে, পুলিশ কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো ধরনের উপঢৌকন নিতে হলে ওই নীতিমালা মেনে নিতে হবে। পুুলিশের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে কমিটি নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ জানায় বলে জানা গেছে। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে আইনশঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ নেই কিংবা যারা কোনো ফৌজদারি অভিযোগকারী নন এরূপ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডোনেশন হিসেবে পুলিশের গাড়ি, আসবাবপত্র ও অন্য সরঞ্জামাদি গ্রহণ করার বিষয়ে লিখিত সরকারি খসড়া নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে খসড়া পুলিশ অধ্যাদেশ ২০০৭ প্রণয়নের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
বৈঠকে পুলিশ ইন্সপেক্টর পদ প্রথম শ্রেণী এবং সাব-ইন্সপেক্টর পদ দ্বিতীয় শ্রেণীকরণের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হওয়ায় কমিটির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
এ ছাড়া বৈঠকে সাগর-রুনি হত্যা মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং নবগঠিত শিল্প পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করা হয়।
মহা পুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার, ডিজি র্যাব মো. মোখলেছুর রহমান, ঢাকার পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন