দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত 'ডেসটিনির আরও ১৫০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি' শীর্ষক প্রদিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে ডেসটিনি গ্রুপ। গতকাল মঙ্গলবার ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল আমীন স্বাক্ষরিত এই প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, সংবাদটি তথ্যভিত্তিক ও সঠিক নয়।
মোহাম্মদ রফিকুল আমীন বলেন, প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে সমবায় অধিদফতরের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের শেয়ার কেনার জন্য ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে। তবে নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বিনিয়োগ দেখানো হয় ৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে সোসাইটি।
কিন্তু প্রকৃত সত্য হল, ক্রয় করার সময় নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের জয়েন্ট স্টকের পরিশোধিত মূলধন ৭ কোটি টাকা থাকায় নিয়মানুযায়ী উক্ত টাকা দেখানোটাই নিয়ম, যা প্রতিষ্ঠানটির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, হিসাবের নিয়মানুযায়ী ক্রয়কৃত প্রতিষ্ঠানে মালিকানা হস্তান্তরের কোনো আর্থিক লেনদেন হিসাবভুক্ত হয় না। ফলে নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেডের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা প্রতিফলিত হয়নি। ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি নিহাজ জুট স্পিনার্স লিমিটেডে ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগের যাবতীয় অর্থ প্রদানের হিসাব চুক্তি, হিসাবের খতিয়ান ও ভাউচারের নথিতে সংরক্ষিত আছে।
আরো উল্লেখ্য যে, পেশাদার মূল্য নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে নিট সম্পদের মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে সঠিক ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও অসত্য।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ডায়মন্ড ডিপ্লোমেটিক টাওয়ারের ১০টি ফ্লোর ও স্পেস কেনার খরচ দেখানো হয় ৮৪ কোটি টাকা, অথচ দেওয়া হয়েছে ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বাকি ৭৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা সোসাইটি আত্মসাৎ করেছে।
প্রকৃতপক্ষে, ৯ কোটি ১৯ লাখ টাকাই ডায়মন্ড ডিপ্লোমেটিক টাওয়ারের ৯ম থেকে ১৮তম তলা পর্যন্ত ফ্লোর ও স্পেস ক্রয় বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি এই ৭৪ কোটি ৫৭ লাখ ৪৩ হাজার ৪৩৫ টাকা এখনো অপরিশোধিত আছে, যা সমবায় অধিদফতরের ২০১০-২০১১ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের ৯.২নং নোটে উল্লেখ রয়েছে। একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে অগ্রিম হিসেবে প্রকল্প কাজ শুরু হওয়ার পরই শর্তানুযায়ী ধারাবাহিকভাবে দেয় অর্থ পরিশোধ করার কথা। সুতরাং এই তথ্যগুলো অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৩ মার্চ ফার্মগেটের আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হল ৫৭ কোটি টাকায় কেনে সোসাইটি। ঠিক এক বছর পর এ বছরের ৩১ মার্চ পুনর্মূল্যায়ন করে ওই সম্পত্তির মূল্য ঠিক করা হয় ৭৪ কোটি ৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮০০ টাকা।
ফার্মগেটে অবস্থিত আনন্দ-ছন্দ সিনেমা হলের স্থাপনাসহ জায়গার পুনর্মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পেশাদার মূল্য নির্ধারণকারী প্রতিষ্ঠান দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী সরকারকে নির্ধারিত হারে ট্যাক্স প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং এখানে অনিয়মের কোনো অবকাশ নেই।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ৭ বছরে ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে ঋণ বিতরণ করে ও সেসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কিনে এবং সম্পদের মূল্য বেশি দেখিয়ে ১,৪৬৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আর্থিক অনিয়ম করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর জবাবে ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, সমবায় আইনে ঋণ দেওয়ার বিধান আছে এবং ডেসটিনির ৩টি প্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশই নতুন। প্রতিষ্ঠালগ্নে নতুন প্রতিষ্ঠান লাভ অথবা অলাভজনক হবে এটাই স্বাভাবিক। সুতরাং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ কথাটি বাস্তবতাবিবর্জিত। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের শেয়ার কেনা দেশের প্রচলিত আইনে বৈধ। সম্পদের মূল্য বেশি দেখিয়ে ডেসটিনির কোনো লাভ নেই। কারণ এর জন্য সরকারকে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়। সুতরাং এসব তথ্য কাল্পনিক এবং বস্তুনিষ্ঠ নয়।
এছাড়া কিছু কিছু বিষয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদক ডেসটিনি গ্রুপের চেয়ারম্যানের মতামত নিলেও তা পূর্ণাঙ্গভাবে ছাপা হয়নি, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অবকাশ রাখে। তাই প্রতিবাদলিপিতে আশা করা হয়, পত্রিকাটি পূর্ণাঙ্গভাবে তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সকল বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন