মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সর্বশেষ দমনাভিযানকে ‘জাতিগত সংহিসতা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির সরকারের প্রশংসা করেছেন যে, তারা সাফল্যের সঙ্গে এ সহিংসতা মোকাবিলা করতে পেরেছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসে’র খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত মিও মিন্ট থান বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত হলেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। অচিরেই বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের শরনার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হবে বলে তিনি দৃঢ় আস্থা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় আরাকান রাজ্যের জাতিগত রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের বিগত তিন দশক ধরে সব ধরণের নাগরিক স্বীকৃতি ও ন্যূনতম মানবিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। ১৯৭৮ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় নিধন অভিযানের মুখে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে সীমান্তবর্তী কক্সবাজার এলাকার বৈধ ও অবৈধ শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
রাষ্ট্রীয় দমনাভিযানের পাশাপাশি তীব্র বর্ণ বৈষম্যের মিয়ানমারের সর্বশেষ গত জুন থেকে নতুন করে সংখ্যাগুরু রাখাইন ও সরকারি বাহিনীর দমনাভিযানের শিকার হচ্ছে রোহিঙ্গারা। এ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে একশ’র কম রোহিঙ্গা নিহত হবার কথা বলা হলেও নির্বাসিত রোহিঙ্গা সংগঠনগুলো বলছে এ সংখ্যা অন্ততপক্ষে চার থেকে পাঁচগুন হবে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে মিয়ানমারের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত মিয়ানমারের আরাকান (রাখাইন) রাজ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।
বাসসে’র খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে জানান যে মিয়ানমার সরকার ওই ঘটনা তদন্তের জন্য একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশন সহিংস ঘটনার কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। এ্যাম্বাসেডর এ্যট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন, মুখ্য সচিব শেখ এম ওয়াহিদ উজ জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে জানান, মিয়ানমার সরকার আন্তরিকতার সংগে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে এবং তা বর্তমানে প্রশাসনের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমারের বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। বাংলাদেশ মিয়ানমার প্রেসিডেন্টের পরবর্তী ঢাকা সফরের অপেক্ষায় রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ামারকে দু’দেশের নাগরিকদের সমৃদ্ধির স্বার্থে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী আরাকান ও চিন রাজ্য থেকে বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তাবটি অনুমোদন করায় মিয়ানমারের প্রশংসা করেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন