পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার এক মাস পর আলোচিত মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মতি দিলেন এবং রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান তা গ্রহণ করলেন।
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব শফিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পরে এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, ‘‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ২৩ জুলাই ২০১২ তারিখে পদত্যাগ করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৮ (১) (ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৩ জুলাই ২০১২ তারিখ হতে সৈয়দ আবুল হোসেনের মন্ত্রীপদ শূন্য হয়েছে।’’
তিনি যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ১০ মাসের টানাপোড়েন শেষে গত ২১ জুলাই মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দেয়ার কথা সংবাদমাধ্যমে জানান আবুল হোসেন। সেতু প্রকল্পের প্রধান অর্থায়নকারী বিশ্ব ব্যাংকের ওঠানো দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই ডিসেম্বরে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে আবুল হোসেনকে সরিয়ে দেয়া হয়। তাকে দেয়া হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
তবে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি করে গত ২৯ জুন বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্ত অনুযায়ী আবুল হোসেনকে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে বিদায় নিতে হয়।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে সৈয়দ আবুল হোসেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। আওয়ামী লীগের আগের শাসনামলেও তিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
তবে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে দাবি করে গত ২৯ জুন বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা প্রকল্পে তাদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বাতিল করে।
বিশ্বব্যাংকের দেয়া শর্ত অনুযায়ী আবুল হোসেনকে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদ থেকে বিদায় নিতে হয়।
২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনা সরকার গঠন করলে সৈয়দ আবুল হোসেন যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। আওয়ামী লীগের আগের শাসনামলেও তিনি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
পদ্মা সেতু প্রকল্পে বাতিলকৃত ঋণ চুক্তি পুনর্বিবেচনা করাতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ‘আলোচনা অব্যাহত রয়েছে’- বুধবার এ তথ্য জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন যে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থার ‘সুরাহা’র জন্য সরকারের হাতে আর মাত্র ৭/৮ দিন সময় রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংক ঋণচুক্তি পুনর্বহাল না করলেও অপর দুই অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান তাদের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়াবে না। ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার অর্থায়নে সেতু প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না সরকারের পক্ষে।
সেতু প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকেদের দুর্নীতি তদন্তে সরকার সহযোগিতা করে নি জানিয়ে গত জুনে ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। প্রধান অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বব্যাংক চুক্তি বাতিল করলে অপর দুই অর্থায়নকারী এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক) ও জাইকা (জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি) তাদের ঋণের চুক্তির মেয়াদ একমাস বাড়িয়েছিল গত মাসে। আগামী ৩১ আগস্ট তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এ সময়ের মধ্যে বিশ্বব্যাংক যদি তার ঋণচুক্তি পুনর্বহাল না করে তবে নিজেদের চুক্তির মেয়াদও বাড়াবে না এডিবি ও জাইকা।
ঈদুল ফিতরের ছুটির পর গতকাল বুধবার সচিবালয় খুললে সকালে সাংবাদিক এবং নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘‘বিশ্বব্যাংকের ঋণচুক্তি বাতিল করাটা অন্যায় হয়েছে। আমি চাই, বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করুক। কারণ, তারা অর্থায়ন করলে দেশের মর্যাদা যেটুকু ক্ষুন্ন হয়েছে সেটা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।’’
ঋণচুক্তি পুনর্বিবেচনার ক্ষেত্রে কথিত দুর্নীতি তদন্তে বিশ্বব্যাংকের শর্তপূরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘এ বিষয়ে যেটুকু করার তার সবটুকুই করা হয়েছে।’’ কতটুকু বা কি কি করা হয়েছে? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকার করেন মন্ত্রী।
চুক্তি পুনর্বিবেচনার আবেদন করে বিশ্বব্যাংককে চিঠি দেয়া হয়েছি কি না, বা হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘চিঠি তখনি দেয়া হবে, যখন বুঝবো, আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হবে না।’’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন