কেউ খড়কুটো নিয়ে খেলাধুলা করে, কেউ খুঁজে বেড়ায় ফেলনা জিনিস, কেউ আবার একটা টাকার জন্য ক্যাম্পাসে ধারে ধারে ফেরি করে। এমনকি কারো হাতে পায়ে ধরে। শত কষ্ট আর বেদনায়ও এদের চোখে মুখে লেগে থাকে খুশির আমেজ! কচি চেহারায় সব সময় উদ্ভাসিত থাকে আনন্দের বন্যায়!
ঈদ প্রত্যেকের জীবনেই আসে খুশির বার্তা। তবে ঈদ যতটা খুশির তার চেয়ে আরো বেশি প্রাণবন্ত হয় যখন আমরা নতুন পোশাক পাই। ঘুনে ধরা এই সমাজের একটি শ্রেণীর জীবনে প্রায়ই নতুন পোশাক-আশাকের কল্পনা করতে পারে না। তাদের ঈদ আসে চারিদিকে দুখ আর কষ্টের আড়ষ্টতা নিয়ে।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর একটি স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন হচ্ছে ‘কীন’ ‘কীন’ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার ছিন্নমূল শিশুদের শিক্ষার আলোতে নিয়ে আসার জন্য প্রতিষ্ঠা করেছে ‘কীন স্কুল’ফোটানোর জন্য প্রতি বছরই চেষ্টা করা হয় তাদের হাতে নতুন পোশাক তুলে দেয়ার।
গত সপ্তাহে স্কুলের ছোট-বড় সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। তাদের মুখের হাসির ঝিলিকে বলে দিচ্ছিল যে তারা কতটা খুশি!
জুয়েল, জুবের দুই ভাই থাকে মদিনা মাকের্ট এলাকায় অঁজো বস্তিতে। শরীরের সঙ্গে এটেঁ আছে জীর্ণ শার্ট। দুজনেই রাস্তায় কাগজ, পুরাতন বোতল কুড়ায়। যা পায় তা ‘ভাঙড়ি পট্রিতে বিক্রি করে। হাতে নতুন কাপড়ের ব্যাগ পেয়ে কেমন লাগলো জানতে চাইলে ঠোটে মুখে হাসির ঝিলিক দিয়ে বললো ‘মহা খুশি! ঈদ আনন্দ অনেক মজায় কাটবে!’
এভাবে কচি শিশু, নাসির, টুম্পা, নাসরিনের মতো সবাই নতুন কাপড় পরে অনেক খুশি! মনে হচ্ছিল ঈদ বুঝি এখনই শুরু হয়ে গেল!
তবে তাদের প্রতি শর্ত একটাই স্কুলের সময় সব কাজ ফেলে পাঠদানে অংশ নেয়া। কোনো মতে স্কুল বাধ দেয়া যাবে না। এরকম প্রসঙ্গে নয়ন, আখি বলে, ‘আর কখনো স্কুল যাওয়া মিস হবে না।’
সব বাধা আর প্রতিকূলতার মাঝে বেড়ে উঠে এসব শিশু। ওদের শুধু অসহায় শিশু বলা ঠিক হবে না। কারণ ওরা আমাদের দেখা পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী শিশু। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও চালিয়ে যাচ্ছে নিজেদের লেখাপড়া।
শাবির ‘কীন’ পরিবারের সদস্যরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘তাদের এই তীব্র ইচ্ছা আমাদের অনুপ্রেরণা, আমাদের নতুন দিনের স্বপ্নের খোরাক। তাদের প্রতিটি মুখে যদি আমরা হাসি ফোটাতে পারি তবেই আমরা বুঝব আমরা কিঞ্চিত সফল। এই উদ্দেশ্যকে সফল করতেই আমাদের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কীন ও কীন স্কুল প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে।’
তারা আশা করছেন, সকলে সাধ্যমত সাহায্য করে এই শিশুগুলোকে তাদের স্বপ্নের আরো কাছাকাছি নিয়ে যাবার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন