দীর্ঘ ছুটির কারণে বেনাপোল ও পেট্রাপোল বন্দরে তীব্র ট্রাকজটের সৃষ্টি হয়েছে।
ঈদের আগে এই জট কমার কোনো সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত ৮ অগাস্ট দুপুরের পর থেকে জন্মাষ্টমী, জাতীয় শোক দিবস, শবেকদর, ঈদুল ফিতর ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে এই বন্ধ চলবে আগামী ২৩ তারিখ পর্যন্ত। মাঝখানে তিনদিন শুধু খোলার দিন রয়েছে।
ওই তিনদিনও কোনো কোনো কর্মকর্তা ঐচ্ছিক ছুটি নেওয়ায় বন্দরের কর্মকাণ্ড একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
বেনাপোল বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৮ অগাস্টের পর থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রপ্তানি পণ্য নিয়ে প্রায় ১২শ’ ট্রাক বন্দর এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিদিন এসংখ্যা বেড়েই চলেছে।
ট্রাকচালক (ঢাকা মেট্রো ট ১৪-৪২০৬) উকিল উদ্দিন শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তিনি ঢাকা থেকে পাটের সুতলি নিয়ে বেনাপোল এসেছেন ৭ অগাস্ট। এখনো বন্দরে বসে আছেন। মাঝে তিনদিন বন্দর খোলা থাকলেও জ্যামের কারণে ভারতে ঢুকতে পারেননি।
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) সহ-সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেনাপোলের বিপরীতে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া পণ্য বোঝাই ট্রাক পার্কিংয়ের জন্য তেমন কোনো জায়গা নেই।
পেট্রাপোল বন্দরের সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউস করপোরেশনে শুধু পাট ও পাটজাতদ্রব্য উঠানামার অনুমতি রয়েছে। বন্দরে আর কোনো পণ্য উঠানামার অনুমোদিত কোনো জায়গা নেই।
সিরাজ আরো বলেন, জায়গার অভাবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার নোম্যান্স ল্যান্ডেই বাংলাদেশি ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড করা হচ্ছে। এখানে একসঙ্গে ২০টি ট্রাক লোড-আনলোড করা যায়।
পেট্রাপোল বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে রপ্তানির অপেক্ষায় একটি ট্রাককে ৮-১০দিন পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ফলে সেখানে সবসময় ট্রাকজট লেগেই থাকে, বলেন সিরাজ।
অপরদিকে পেট্রাপোল বন্দর সি অ্যান্ড এফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি কার্ত্তিক চক্রবর্তী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পেট্রাপোল বন্দর থেকে বনগাঁ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার রাস্তার দু’ধারে রপ্তানি পণ্য নিয়ে বেনাপোল বন্দরে ঢোকার অপেক্ষায় কয়েক হাজার ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে। তাই পেট্রাপোল বন্দর এলাকায়ও তৈরি হয়েছে তীব্র ট্রাকজট।
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (সিএন্ডএফ) সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন ৮০-৯০ ট্রাক পণ্য ভারতে রপ্তানি হতো। এখন তা দাঁড়িয়েছে ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাকে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে জায়গা সংকটের কারণে বেনাপোল দিয়ে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো বলেন, বেনাপোল বন্দরে একসঙ্গে ৬০০ ভারতীয় ট্রাক পার্কিং করার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ভারতীয় ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। এছাড়া ভারত থেকে আমদানি পণ্য রাখারও একটি ট্রাক টার্মিনাল আছে, যেখানে একসঙ্গে ১৫০টি ট্রাক রাখা যায়। অথচ পেট্রাপোল বন্দরে এধরনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
“বিষয়টি নিয়ে আমরা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেও কোনো সুফল পাইনি,” বলেন তিনি।
এ ব্যাপারে বেনাপোল শুল্ক ভবনের যুগ্ম-কমিশনার ফাইজুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আমাদের রপ্তানি প্রবণতা বেশ বেড়েছে। সা¤প্রতিক সময়ে বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এটাই ট্রাকজটের অন্যতম কারণ।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক আব্দুল আওয়াল হাওলাদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০০১ সালে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ গঠনের পর থেকে বেনাপোল বন্দরে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল অবকাঠামো। বর্তমানে ৬০ একর জমির উপর ৪২টি শেড, ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড ও ট্রাক টার্মিনাল রয়েছে। বতমানে বন্দরের পণ্য ধারণক্ষমতা ৪০ হাজার মেট্রিক টন। বছরে ১৪ লাখ মেট্রিক টনের বেশি পণ্য এ বন্দরে হ্যান্ডেলিং করা হয় বলে তিনি জানান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন