ঈদে দীর্ঘ ছুটির পর বুধবার অফিস ও আদালত খুললেও তা সরগরম হয়ে ওঠেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই অবস্থা আরো কয়েকদিন চলবে। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে আগামী রোববার চিরচেনা চিত্র দেখা যাবে অফিস ও আদালতপাড়ায়।
জনপ্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে সকালে কর্মচারীদের উপস্থিতি খুব বেশি দেখা যায়নি। পুরান ঢাকার আদালত পাড়া ও সুপ্রিম কোর্টেও বিচার প্রার্থী ও আইনজীবীদের আনাগোনা কম।
অফিস-আদালত খোলার দিনে ঢাকার সড়কগুলোতে যে ভিড় দেখা যায়, তার দেখা এখনো মেলেনি। রাস্তাগুলোতে ঈদের ফাঁকা ফাঁকা ভাব এখনো রয়েছে।
বুধবার সকালে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা যায় বারান্দায়, সিঁড়িতে, লিফটে, অফিস কক্ষে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও কোলাকুলি করতে।
অনেকে গ্রামের বাড়ি থেকে সরাসরি অফিসে এসেছেন বলেও জানান। এসব কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ১০টার পরও অফিসে ঢুকতে দেখা গেছে।
অফিস করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। তারা নিজ দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, “এবার ঈদ সুন্দর হয়েছে। দুর্ঘটনার সংবাদ তেমন শোনা যায়নি। তবে সাতদিন আমরা অফিস করতে পারিনি। এখন কাজে মন দিতে চাই।”
এবার ঈদুল ফিতরের আগে জাতীয় শোক দিবস এবং শবে কদরের ছুটি মিলিয়ে টানা সাত দিন ছুটি পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘ ছুটি পেয়ে অনেকেই গেছেন বাড়িতে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, “ঢাকার সায়দাবাদেই আমি থাকি, এটিই স্থায়ী ঠিকানা। এবার ঈদে বেশ কয়েকদিন ছুটি পাওয়া গেছে। মেয়ে বিয়ে দিয়েছি ঝালকাঠি। মেয়েকে দেখতে যাওয়ার খুব ইচ্ছে ছিল। তাই এবার মেয়ের বাড়ি ঘুরে এলাম।”
ঈদের আগে সরকারি অফিস সর্বশেষ খোলা ছিল ১৪ অগাস্ট মঙ্গলবার। ১৫ অগাস্টের পরদিন বুধবার ছিল শবে কদরের ছুটি। এরপর আবার দুদিন সাপ্তাহিক ছুটি। এরপর ২১ অগাস্ট পর্যন্ত ছিল ঈদের ছুটি।
এ লম্বা ছুটির কারণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সকল মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও সংস্থা প্রধানদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য বলা হয়েছিলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, লম্বা ছুটি থাকার কারণে অতিরিক্ত ছুটি না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়।
ছুটির পর নির্ধারিত সময়ের পর অফিসে উপস্থিত না হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে এরপরও কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাভাবিক উপস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্বরাষ্ট্র, ধর্ম, স্বাস্থ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, বিদ্যুৎ ও জ্ব্ালানী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, খাদ্য, কৃষি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ঘুরে অন্যদিনের তুলনায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা গেছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আলী হোসেনের বাড়ি মেহেরপুরে। তিনি ছুটি কাটিয়ে বুধবার সকালে ঢাকায় ফিরেই অফিসে এসেছেন। তবে ফেরেননি তার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিজেই। তিনি রয়েছেন সিরাজগঞ্জে।
পুরো সচিবালয়েই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতি ৫০ শতাংশের নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন