খুলনা বিভাগে হঠাৎ করেই আইন-শৃংখলার চরম অবনতি ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে হত্যা-খুন এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো রীতিমতো আংঙ্কিত করে তুলেছে রাজনীতিক-জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষকে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে এসব অঘটন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঘটে যাওয়া হত্যাকান্ড এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো। অথচ ঈদ পরবর্তী ৬ দিনে ২১ জন খুন এবং অজ্ঞাত ৩টি লাশ উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন সকালে খুলনার দিঘলিয়ার প্দ্মবিলা এলাকায় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ পড়তে যাওয়ার পথে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে খুন হন উপজেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মুন্সি অলিয়ার রহমান (৪৫) এবং আওয়ামী লীগ নেতা বিআরডিবি’র পরিদর্শক নূরুল ইসলাম (৫৫)। এদিন ভোরে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য অজিত মন্ডল (৫২) কে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এর ঘটনার পর পরই বিক্ষুব্ধ জনতার ধোলাইয়ের শিকার হয়ে নিহত হন তবিবুর রহমান (৩২) নামে এক সন্ত্রাসী।
গত ২১ আগস্ট বাগেরহাটের শরণখোলার বগী গ্রামে কাজল বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূ ঝুলান্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার দোহা নাগিরাট গ্রামে বিএনপি-আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে বিএনপি কর্মী আব্দুল কুদ্দুস বিশ্বাস (৩৮) নিহত হয়েছেন। এদিনে গোপালগঞ্জ শহরতলীর ঘোষের গ্রামে দু’ দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আকফার মোল্লা (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এদিন চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর এলাকায় ডাকাতি করার সময় আটক ২ ডাকাত গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে নিহত হয়।
২২ আগস্ট নগরীর খালিশপুরের চরেরহাট ভৈরব নদের ঘাট থেকে অজ্ঞাত এক মহিলার লাশ উদ্ধার করে খালিশপুর থানা পুলিশ।
২৩ আগস্ট যশোরের বাঘারপাড়ার একটি ডোবা থেকে নড়াইল সদর উপজেলার বরাশুলা গ্রামের রওশন শেখের ছেলে ইমদাদুল হকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিনে সকালে ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কালীশংকরপুর গ্রামের যুবলীগ কর্মী দলিল উদ্দীন (৩৯) কে কুপিয়ে হত্যা করে তার চাচাতো ভাই স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সমির উদ্দীন। এদিন যশোরের এনায়েতপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে আওয়ামী লীগ নেতা আকবর আলী মধু ওরফে মধু মন্ডল সন্ত্রাসীদের হামলায় নৃশংসভাবে খুন হন। একই দিনে নড়াইলের কালিয়ায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু’গ্র“পের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা মোশারেফ হোসেন নিহত হন। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের লক্ষ্মীপুর গ্রামে জাসদ কর্মীরা হত্যা করে আওয়ামী লীগ কর্মী সাহাজুল ইসলাম (২৫)কে। রাতে রাজবাড়ীতে যুবদল নেতা শামসুল আলম বাবলু খুন হন সন্ত্রাসীদের হাতে। একই রাতে খুলনার বটিয়াঘাটায় যৌতুক লোভী স্বামী পিটিয়ে হত্যা করে তার স্ত্রী নিপা (২২)কে।
২৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যায় যশোরের উপশহর পার্কে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে শ্রমিক লীগ কর্মী বিল্ল¬াল হোসেন (২২) খুন হয়েছেন। অপর ঘটনায় শহরের পুরাতন কসবার সাবেক বিমান অফিসের সামনে খুন হয়েছেন যুবলীগ কর্মী জামাল হোসেন (৩৫)। এদিন রাজবাড়ীতে তুচ্ছ ঘটনায় সায়েদুর রহমান তালুকদারের হাতে খুন হয়েছেন তারই ছোট ভাই মিজানুর রহমান তালুকদার (৩৫)। এদিন নগরীর গল্লামারী অগ্রনী ব্যাংক কোয়ার্টার এবং গণন বাবু রোড থেকে অজ্ঞাত দু’মহিলার লাশ উদ্ধার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ।
গত ২৫ আগস্ট শনিবার নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চাঁচই গ্রামের একটি পাট ক্ষেত থেকে খবির জমাদ্দার (৪২) নামে এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এদিনে পিরোজপুর শহরের কালিবাড়ী এলাকায় ঘরের মধ্যে গোলাম রসুল (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে জবাই করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ সফিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেন, ‘পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের ফলে সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ এটা বলা সঠিক নয়। অতীতের চেয়ে আইন শৃঙ্খলা অবশ্য ভালো। অজ্ঞাত লাশের কারণ অনুসন্ধানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কাজ করছে।
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে খুলনা ডিভিশনাল ইন্সপেক্টর জেলারেল (ডিআইজি) মো. মেজবাহ উদ্দিন খুলনা নিউজকে বলেন, ঈদের পূর্বেও অপরাধ প্রবনতা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ঈদের পরে একটু বেড়েছে। তবে আমরা আশা করছি মাস শেষে এ পরিসংখ্যান বিগত সময়ের চেয়ে সন্তোষজনক অবস্থায় এসে পৌছাবে।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল জলিল বলেন, ‘এসব হত্যাকান্ড এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের ঘটনাগুলো নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা। সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে ভালো রয়েছে।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন