সিরিয়া নিয়ে ন্যাম সম্মেলনে কথা চালাচালি চলছে ইরান আর মিসরের মধ্যে মিসরের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে রাজনৈতিক অপরিপক্বতা বলে সমালোচনা করল ইরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন জানাল মিসরকে। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন (ন্যাম) সম্মেলনে সিরিয়া প্রসঙ্গে বেশ কড়া কথা বলেছিলেন মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। তিনি বলেন, এটা এখন নৈতিক দায়িত্ব এবং রাজনৈতিক প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সিরিয়ার জনগণের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করা, যারা অবৈধ একটি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তিনি আরো বলেন, এটা স্বীকার করতে হবে যে, আমাদের সবার হস্তক্ষেপ ছাড়া এই রক্তপাত বন্ধ হবে না। সিরিয়ার মুক্তি যারা চায় তাদের প্রতি আমাদের সমর্থন ঘোষণা করতে হবে।
সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে মুরসির এই বক্তব্যের প্রতিবাদে ওয়াকআউট করে সিরিয়ার আসাদ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ফলে স্বাগতিক ইরানের জন্য বিষয়টি অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে স্পষ্টতই বাশার আল আসাদের পক্ষ নিয়েছে ইরানের সরকার। অন্যদিকে ইরানের অনেক কর্মকর্তাও মুরসির এই বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাদের মধ্যে ইরানের সংসদের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা হোসেইন শাইখহোলেসস্নাম প্রথম প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্ট মুরসির সমালোচনা করলেন। ফরাসি সংবাদ মাধ্যম মেহরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মুরসির সম্পর্কে বলেন, এই বক্তব্য দিয়ে তিনি মিসরের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন, যা ন্যাম সম্মেলনের মূলনীতির লঙ্ঘন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, ন্যাম সম্মেলনে সভাপতিত্ব করার মতো যথেষ্ট রাজনৈতিক পরিপক্বতা প্রেসিডেন্ট মুরসির নেই।
ইরানের কাছ থেকে এই সমালোচনা আসার পর স্পষ্টতই ন্যাম সম্মেলনে জোট নিরপেক্ষ পরিস্থিতি আর থাকেনি। সিরিয়া নিয়ে সেখানে মধ্যপ্রাচ্যের বড় দুই দেশের মতপার্থক্য সম্মেলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে এখন। এর আগে ন্যাম সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার জন্য মিসরের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন তারা মিসরের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের অন্যতম মুখপাত্র প্যাট্রিক ভেনট্রেল জানিয়েছেন, সিরিয়া নিয়ে মুরসির বক্তব্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং জোরালো। তার এই বক্তব্য সিরিয়ার আসাদবিরোধীদের জন্য সহায়ক হবে। ভেনট্রেল বলেন, তেহরানে কিছু লোকের এই কথা শোনা দরকার ছিল এবং প্রেসিডেন্ট মুরসি সেটি তাদের শুনিয়েছেন। সিরিয়া নিয়ে মতপার্থক্য থাকলেও বৃহস্পতিবার অবশ্য বৈঠক করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন