মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘অপমান’ করতেই গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে তার নির্ধারিত বয়সের চেয়ে বেশি সময় থাকার বিষয়ে সরকার তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম মিয়া।
বৃহস্পতিবার সকালে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে তিনি বলেন, “নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসকে অপমান করতেই মন্ত্রিসভায় এ ধরনের বেআইনি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিসভার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন। আমরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানাই।”
গত ২ অগাস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তনের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে মুহাম্মদ ইউনূসের নির্ধারিত বয়সের চেয়ে বেশি সময় থাকা বৈধ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয়।
এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকাকালে ইউনূস ওয়েজ আর্নার হিসেবে বিদেশ থেকে কতো টাকা এনেছিলেন; তিনি তা আনতে পারেন কি না; ওই টাকার জন্য কী পরিমাণ কর অব্যাহতি নিয়েছেন- ইত্যাদি বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের আছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়। এ মাসেই এ প্রতিবেদন জমা দেবে এনবিআর।
সরকার প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ ইউনুসের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য একের পর এক নানা সিদ্ধান্ত নিচ্ছে অভিযোগ করে রফিকুল বলেন, “ইউনূস সাহেব দীর্ঘদিন ব্যাংকটির এমডি ছিলেন। এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে বিদেশ থেকে সহযোগিতা এসেছে। আমরা জানি, বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্স ও অনাবাসী (এআরবি) অর্থ করমুক্ত। এখন সরকার নোবেল বিজয়ী ইউনূস সাহেবের বিদেশ থেকে আনা অর্থের ব্যাপারে তদন্ত করতে চাচ্ছে।”
সরকারের এই সিদ্ধান্তে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে ‘সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ’ জারির প্রস্তাবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন দেওয়ার সমালোচনা করে রফিকুল বলেন, “এর ফলে গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ বিনষ্ট হবে। এতে নারীদের ক্ষমতা খর্ব হবে।’’
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গ্রামীণ ব্যাংকের ওপর সরকারের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে মানববন্ধনটির আয়োজন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি হুমায়ুনর কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে এই মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, যুব দল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হৃদয় বাংলাদেশ সভাপতি মো. হানিফ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি খন্দকার গোলাম মূর্তজা বক্তব্য রাখেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন