বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের স্পিকার যে রুলিং দিয়েছিলেন তাকে অকার্যকর ও আইনগত ভিত্তিহীন বলে অভিমত দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ বি এম আলতাফ হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে গত ২৪শে জুলাই রিটের নিষ্পত্তি হলেও আজ সোমবার অভিমত ও নির্দেশনাসহ পূর্ণাঙ্গ এই রায় প্রকাশ করা হয়েছে।স্পিকারের রুলিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এক রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করতে গিয়ে হাই কোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এই অভিমতসহ রায় দিয়েছেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার আবদুল হামিদ তার রুলিং-এ বলেছিলেন, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী সংবিধান লংঘন করেছেন এবং এবিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে তিনি প্রধান বিচারপতির প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন।
বিচারপতি চৌধুরীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়
রিট আবেদনের নিষ্পত্তি করতে গিয়ে হাই কোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ তার অভিমতে বলেছে, স্পিকারের এই অভিমতের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই। স্পিকারের রুলিং সংবিধান ও সংসদের কার্য প্রণালি বিধির সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।
স্পিকারের দেওয়া রুলিংয়ের বিষয়ে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ কে এম শফিউদ্দিন।
এই আবেদনটি শুনতে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ বিব্রত বোধ করার পর রিট আবেদনটিকে এই বেঞ্চে আনা হয়।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের জমি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দেওয়া হাই কোর্টের আদেশের বিষয়ে স্পিকার আবদুল হামিদ বলেছিলেন, আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ হলে জনগণ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধেও রুখে দাঁড়াতে পারে।
পরে বিচরাপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ স্পিকারের ওই বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেন।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্পিকারের এই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল।
এতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। জাতীয় সংসদে সরকারি দলের অনেক সংসদ সদস্য বিচারপতি চৌধুরীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
জবাবে ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি প্রত্যাহারের জন্যে স্পিকার সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানান এবং বিচারপতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহবান জানান।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন