এবার লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণে নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। আমদানিকৃত কাঁচা লবণের দাম প্রতিকেজি আড়াই টাকা হলেও ত্রেুতাদের বাজার থেকে প্যাকেটজাত লবণ কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে।
সরকার লবণ আমদানি উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর ব্যবসায়ীরা ২ লাখ ৮০ হাজার টন লবণ ভারত থেকে আমদানি করার জন্য এলসি খোলে। কিন্তু বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে থাকার কারণে লবণের দাম কমেনি। চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কায় এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্যে সরকার লবণ আমদানি করার বিষয়টি উন্মুক্ত করে দেয়। কিন্তু চট্টগ্রাম এবং নারায়ণগঞ্জে একটি সিন্ডিকেট স্থানীয় বাজার নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগে আমদানিকারকরা সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ অবস্থায় অনেকটা বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ বেশি দরে লবণ ক্রয় করতে হচ্ছে। ক্রেতারা জিম্মি হয়ে পড়েছে সিন্ডিকেটের কাছে।
বাংলাদেশে প্রতি বছর ১০/১২ লাখ টন লবণের চাহিদা রয়েছে। চলতি মৌসুমে দেশে ৮ লাখ টন লবণ উৎপাদন হওয়ায় ২ লাখ টন লবণের ঘাটতি থাকে। গত জুলাই মাসে আকস্মিকভাবে লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্যে গত রোজার আগেই ভারত থেকে লবণ আমদানি উন্মুক্ত করে দেয়। তিনটি লবণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ভারত থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টন পরিশোধিত লবণ আমদানির জন্যে এলসি করে। ইতিমধ্যে এলসি করা লবণের মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজার টন লবণ দেশে পেঁৗছেছে।
নারায়ণগঞ্জের লবণ ব্যাবসায়ী গিয়াস উদ্দিন জানান, ভারতে প্রতিটন লবণ ৪০ থেকে ৪৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। দেশে এ লবণ পেঁৗছার পর প্রতি কেজি লবণের দাম পড়ে আড়াই থেকে ৩ টাকা। তিনি জানান, লবণ আমদানিকারক সিন্ডিকেট এ লবণ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ৯/১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছে। অথচ গত একমাস যাবৎ খুচরা বাজারে প্রতিকেজি লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। খুলনার লবণ ব্যবসায়ী সুলতান আহমেদ জানান, দেশে প্রতিমাসে ৭০/৭৫ হাজার টন লবণের চাহিদা রয়েছে। কোরবানি ঈদের সময় অতিরিক্ত ২ লাখ টন লবণের প্রয়োজন হয়। তিনি জানান, আমদানিকারকরা লবণ আমদানি করার পর নিজের গুদামে মজুদ রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। যার কারণে সরকার যে লক্ষ্যে লবণ আমদানি উন্মুক্ত করে দিয়েছে তার সুফল ক্রেতারা পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে সরকারের বানিজমন্ত্রণালয় জুলাই মাসে ১৮ তারিখে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও এই রিপোর্ট এখনো মন্ত্রণালয়ে জমা হয়নি। এ ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লবণ আমদানি কারক সিন্ডিকেট এত শক্তিশালী তাদের প্রভাবের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি এখন পর্যন্ত রিপোর্ট জমা দিতে পারেনি।
নারায়ণগঞ্জের একাধিক লবণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে বড় বড় লবণ ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে লবণ মজুদ শুরু করেছে। আমদানিকারক সিন্ডিকেট আমদানিকৃত লবণ বাজারে বিক্রি না করে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে তাদের নিজস্ব গুদামে এ লবণ মজুদ করছে। জানা গেছে, এই সিন্ডিকেট আরো ১ লাখ টন লবণ আমদানির এলসি খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে এসি আই কোম্পানি ১০ হাজার টন লবণ আমদানির এলসি খোলেছে।
ব্যবসায়ীদের মতে বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ লবণ মজুদ আছে তাতে লবণের সংকট থাকার কথা নয়। সিন্ডিকেটের কারণেই বাজারে লবণের দাম কমছে না। এই ব্যাপারে আমদানিকারক সিন্ডিকেটের অন্যতম পূবালী সল্টের মালিক পরিতোষ সাহার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাজার দরের ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে ব্যবসায়ীদের অভিমত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং জোরদার করা না হলে কোরবানি ঈদের আগে লবণের দাম আরো কয়েক দফা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
